এক তলোয়ার দাঁড়িপাল্লার উপর ভারসাম্যে, ফলাও ভারও অন্যটাকে কাত করে না। ন্যায়ের মূর্তির পিছনে ঝোলা কাপড় টানটান, তার ভাঁজ আড়াল করে আর ফুটিয়ে তোলে, আগে আর পরের মাঝে এক বিভাজন। দুপুরের রোদ টেবিলে বিশ্রাম নেয়, ছায়া রাখে না। এখানে সিদ্ধান্ত মাপা হয়, আর ফল চুপচাপ অনিবার্যতায় জমে, যেন দুই ভাগ করা ডালিমের নীরব ঘোরে ডাকা।
গল্প আর সাম্রাজ্যের খাতায় আইনের দাঁড়িপাল্লা একসময় বসানো হত পাহাড় আর তীরের মাঝের সেই সমৃদ্ধ, রং-বহনকারী মাঠে। বণিকেরা উপকূল থেকে বয়াম আনত, লোনা জোয়ার থেকে তোলা ক্ষুদ্র জীবের শুকনো দেহে ভরা, প্রতিটি পশম আর রেশম রাঙাবে ন্যায়াধীশের পোশাক আর বড় গির্জার বেদির কাপড়ের জন্য। ভূমধ্যসাগরীয় শহরের ব্যস্ত হাটে রং ধরানোর দ্রব্য আর কাপড়ের থান হাত বদল হত। বাণিজ্য নিজেই এক খতিয়ান হয়ে উঠত, প্রতিটি লিখন ঋণ আর দামের প্রশ্ন। আদালতের আসনে ন্যায়াধীশের আলখাল্লা এমন খাটুনির দাগ বহন করত, সেই রং যারা যুক্তি আর ফল মাপতে বাধ্য তাদের জন্য রাখা।
প্রাচীন গল্পে ন্যায়ের তলোয়ার শুধু সত্য মিথ্যা থেকে আলাদা করত না, শাঁস খোসা থেকেও। ডালিমের ফল, শুকনো পাহাড়ের ঢালে ফলা, তার বীজ পরিপাটি সারিতে দিত, প্রতিটি এক রত্ন আর এক প্রতিশ্রুতি। ফলের রস শপথকারীদের ঠোঁটে থেকে যেত, দুপুরের আকাশের নিচে বলা শপথের সঙ্গে বাঁধা এক স্বাদ। যে শহরে রায় দৈনিক রীতি ছিল, গত শরতের ফসলের লাল আঙুরের মদে ভরা কাচের পানপাত্র তোলা হত দেওয়া রায় আর ঠিক হওয়া নিয়তির পানে। পান রুমাল রাঙাত ঠিক যেমন রায় আসনের সামনে আসা মানুষের উপর দাগ রাখত।
ইউরেশিয়া জুড়ে, যখন ঝড় তৃণভূমি আর নদীর উপর জমত, রসায়নসাধক আর রাখাল দুজনেই প্রাচীন ঝোপের ফল থেকে চাপা কালিতে নথি রাখত। আদেশ আর স্বীকারোক্তি, চুক্তি আর ক্ষমার চিঠি। সব সেই রঙের চিহ্ন বহন করত। কালির স্থায়িত্ব দানও ছিল হুমকিও। পালক-কলম চামড়ার কাগজ ছোঁয়ার পর আলতো মুছে ফেলা ছিল না, শুধু সময় আর জলের ধীর কাজ। এই দাগ তলোয়ারের ধারের প্রতিধ্বনি। কাটা, সিদ্ধান্ত, আর ফল সামনে বয়ে নেওয়া।
ঘরের ভিতরে রান্নাঘরের ছুরি, আনুষ্ঠানিক তলোয়ারের বিনয়ী আত্মীয়, সকালের খাবারের জন্য ফল ভাগ করে। গত রাতের মদে দাগ-ধরা এক কাপড় চেয়ারের পিঠে শোকায়, পরিবারের না-বলা দরকষাকষির সাক্ষী। বাগানে ডালিম গাছের ডাল পাকা ফলের ভারে নুয়ে পড়ে, প্রতিটি ভাগ আর ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি। দুপুরের আবহাওয়া স্থির আর শুকনো, মেঘ অনেক উপরে ঝোলে, যেন আকাশ নিঃশ্বাস চেপে রাখে, মাপ নেওয়ার অপেক্ষায়।
আজ আপনি এক ডালিম ছাড়িয়ে নীরবে তার বীজ গুনতে পারেন, বা পুরোনো ধরনে এক চিঠি লিখতে পারেন, ঝরনা-কলম আর মোটা কাগজ দিয়ে। এক কাপ মদ ঢেলে নেওয়া এক সিদ্ধান্তের কথা ভাবতে পারেন, চুমুক নেওয়ার আগে তল থিতুক। বা ধোয়ার পর এক কাপড় পরিপাটি ভাঁজ করে, আগে যারা তা নাড়াচাড়া করেছে তাদের হাত মনে পড়ে। ধারাবাহিকতার এক ইশারা, রায়ের কিনারায় চুপচাপ বাঁচা ইতিহাসের।
আজকের ভাগ্যের রং টকটকে লাল।
Lucky Color: Crimson — #DC143Cভারসাম্য স্পষ্টতা ডাকে। চুপচাপ রীতি সংকল্প তীক্ষ্ণ করে।