জাদুকরের সামনের টেবিলে চারটি হাতিয়ার পড়ে আছে। জলপাই থেকে কাটা এক লাঠি, ফিকে হাড়ের এক পানপাত্র, সমভূমি থেকে বহু আগে মিলিয়ে যাওয়া এক প্রাণীর দাঁত দিয়ে বানানো হাতলের এক ফলা, আর প্রাচীন ধাতু থেকে চাপা এক চাকতি। প্রতিটি হাতিয়ার এক উপাদানের কথা বলে, তবু যা সবচেয়ে নরম ঝিলমিল করে তা পানপাত্র, শতাব্দীর ধৈর্যে কাটা, তার পৃষ্ঠ অনেক প্রজন্ম ধরে অনেক হাতে মসৃণ। এটা কাচ বা মাটির পেয়ালা নয়, এমন এক পুরনো পদার্থের, যা মেঘহীন আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ নদীর বদ্বীপ পেরোনো প্রাণীদের স্মৃতি বয়ে বেড়ায়।
জাদুকরের মাথার উপর অনন্তের কুণ্ডলী ফিতা মরুভূমির দূর দিগন্তের মতো জ্বলে, যখন সূর্য এইমাত্র উঠেছে। টেবিল এক যত্ন করা বাগানের কিনারায় দাঁড়িয়ে, যেখানে ভোরে লিলি খোলে, তাদের পাপড়ি প্রথম নরম আলো প্রতিফলিত করে। এখানে লাঠি উপরে ইশারা করে, পরিষ্কার আবহাওয়ার প্রতিশ্রুতি টানে, যখন উষ্ণতা ওঠার আগে কুয়াশা থাকে। জাদুকরের অন্য হাত নিচে বাড়ে, জোরকে মাটিতে, ফোটা কন্দের শিকড়ে, আর এখনো গজাবে এমন কিছুর প্রতিশ্রুতিতে নামিয়ে রাখে।
ইতিহাস জুড়ে যে উপাদান পানপাত্র আর ফলার হাতল গড়ে, সে বনের হৃদয় থেকে আর সবচেয়ে দূরের সাভানা থেকে যাত্রা করেছে, বণিকেরা বাঁকা নদী বেয়ে মার্বেল আর ধূপের শহরে বয়ে নিয়ে গেছে। প্রাচীন সাম্রাজ্যের কালে বলা হতো এটা দুর্লভ মশলার চেয়েও দামি, তালু থেকে তালুতে কর হিসেবে যাওয়া, বা পবিত্র দরজার চাবি কেটে বানানো। জাদুকর এমন কথা মনে রাখেন, এক নদীর বন্দরের কারিগর কীভাবে পৃষ্ঠে পাতার নকশা চেপেছিলেন, যাতে চুপচাপ ঘরে মোমবাতির আলো ধরে, যেখানে গোপন কথা বলা হতো। পুরনো মঠের সংরক্ষণাগারের গভীরে লিপিকারেরা সেই একই মসৃণ পদার্থের ছক্কা আর দাবার ঘুঁটি রেখেছেন, তাদের পৃষ্ঠ প্রজন্মের ছোঁয়ায় ক্ষয়ে গেছে।
পুরাণ বলে এক প্রাসাদের কথা, অন্তহীন বালির টিলার দিকে তাক করা খাড়ার উপর গড়া। সেখানে সিংহাসন পাথর থেকে নয়, জাদুকরের পানপাত্রের সেই একই উপাদান থেকে গড়া হয়েছিল, ইচ্ছের ক্ষমতা আর কারুকাজের দক্ষতার এক স্মারক। সেই সিংহাসনের পাদদেশে গায়কেরা সূক্ষ্ম পালিশে কাটা বাঁশি আর কাঠের তালি বাজাতেন, তাদের সুর পরিষ্কার সকালের বাতাসে প্রতিধ্বনিত হতো, যেন উপর থেকে বুদ্ধি নামিয়ে ডাকছে।
রান্নাঘরে সেই একই উৎসের হামামদিস্তা আর নড় বীজ আর শস্য পিষে, ফসলের মাটির গন্ধ হাতি আর বিশাল বনের স্মৃতির সঙ্গে মেশায়। কাপড়ের সিন্দুকে সরু দাঁতের এক চিরুনি, মসৃণ করে কাটা, বাবা-মা থেকে সন্তানের হাতে যায়, দক্ষ হাত আর নরম হৃদয়ের আশীর্বাদ নিয়ে। এমনকি শীতে, যখন হাওয়া ঘর জড়ায় আর উনুন জ্বলে, এক সেট ডমিনো, তাদের মুখ ফোঁটায় চেনা, মানটেলপিসে পড়ে থাকে। প্রতিটি ঘুঁটি দূর ভূমির ঘনত্ব আর প্রাচীন হাতের ধৈর্য বয়ে বেড়ায়।
আজ কেউ এই উৎস থেকে গড়া এক স্মারক হাতে ধরতে পারে, তার রেখা আঁকতে পারে, পুরনো গল্পের যাত্রা মনে করতে পারে। জাদুকরের পানপাত্রের প্রতিধ্বনি করে এমন এক পেয়ালায় চা বানাতে পারে, কথা বলার আগে ইচ্ছের এক মুহূর্তের স্বাদ নিতে পারে। সাবান বা নরম কাঠ থেকে এক সাদামাটা আকার কাটতে পারে, স্মৃতি আর ইচ্ছের সেতু বাঁধা কারুকাজকে সম্মান দিয়ে। অথবা ভালোবাসা এক খেলা খুলতে পারে, প্রতিটি ঘুঁটির ভার আর ঠান্ডা অনুভব করে, ঘরে চুপচাপ সৌভাগ্য ডাকতে পারে।
আজকের ভাগ্যের রং হাতির দাঁতের রং।
Lucky Color: Ivory — #FFFFF0ইচ্ছে আকার হোক। আপনার যা হাতিয়ার দরকার, সবই ইতিমধ্যে হাতের নাগালে।