ছোট বুনো ফুলের মুকুট পরা এক মূর্তি বনের নিস্তব্ধতায় শান্ত দাঁড়িয়ে, হাত এক বিশাল বিড়ালের মুখে। সিংহের চোয়াল আস্তে বন্ধ হয়, জোরে নয়, তাঁর ছোঁয়ার শান্ত নিশ্চয়তায়। এই ফাঁকা জায়গায় ক্ষমতা নীরব। নিস্তব্ধতা অনুপস্থিতি নয়, উপস্থিতি। যেমন প্রথম আলোয় জীবন্ত বনের ডালের নিচে আপনি গভীর, নিশ্বাসের বিরতি অনুভব করেন। গল্পে এ সেই জায়গা, যেখানে পুরোনো শিকড় জড়িয়ে থাকে আর জীবন্ত জিনিস শতবছরের স্মৃতি ধরে রাখে। রাজা আর রাখাল, নির্বাসিত আর কবি, সবাই এই গাছের নিচে আশ্রয় পেয়েছে। এখানেই শক্তি ঢালও, ডাকও।
এক বিশেষ শৈবাল প্রাচীন ওকের উত্তর পাশে মোটা হয়ে ওঠে, পায়ের নিচে নরম, সবচেয়ে ছোট গুবরে পোকা লুকোয়। কার্ডের মানুষ হয়তো এখানে বুনো ওষুধি তুলেছেন, টক শাক আর ফার্নের গুচ্ছ, মুকুটে বুনেছেন। বনে বুদ্ধি ধৈর্যশীল। কাঠুরেরা ছায়ার ভেতর যায়, কাঁধে কুড়ুল, জানে শীতের উনুনের প্রতিটি কাঠ এক দিনের যত্নশীল পরিশ্রমে পাওয়া। বাতাসে চূর্ণ সূঁচপাতা আর তাজা মাটির গন্ধ, মনে করায় সহ্য চুপচাপ গড়ে, স্তরের ওপর স্তর। বনের ফসল ধীর, কিন্তু নিশ্চিত। আরোগ্যের আঠা, চায়ের পাতা, আগুন ধরানোর কাঠি। সিংহ, একসময় বিপদের চিহ্ন, এখন তাঁর পায়ের কাছে ঘুমায়, উপস্থিতি আর বিশ্বাসে বশ।
কিংবদন্তি বলে, প্রাচীন ড্রুইডরা দেবদারু আর সরল গাছের মধ্যে মিলিয়ে যেত, হাওয়ার গোপন কথা শুনত। এখানে শক্তি গর্জন বা আগুন নয়, জীবন্ত কাঠের ধীর, স্থির বাড়া। বিশাল বিড়ালের কেশর হয়তো হাজার বছরের পুরোনো গাছের ছাল ছোঁয়, তার বলয় ঝড় সহ্য করা আর রোদের মৌসুম টিকে থাকার হিসাব রাখে। রাজারা একসময় গভীর কুঞ্জকে শিকারের জমি বলত, কিন্তু সন্ধ্যায় নীরব সংগ্রহকারীই, মাশরুম আর পড়া ডাল তুলে, এই জায়গার সবচেয়ে পুরোপুরি। বন না-দেখা পরিশ্রমের ঘর। সারের যত্নশীল স্তর, মাটির নিচে শিকড়ের ধীর বোনা, বসন্তে জলের ওপরের টান। একসময় পথিকেরা এই বনে ঘুরত শুধু এক হাঁটার লাঠি আর রুটির থলি নিয়ে। তারা চিহ্ন দেখতে জানত। গুঁড়িতে দাগ, রোদের দিকে নোয়া এক চারা, দূরের এক ছোট গায়ক পাখির ডাক।
ঝড়ের মেঘ জমলে ছাউনি আশ্রয় হয়, ডাল মাথার ওপর বুনে, যেকোনো ছাদের চেয়ে প্রাচীন নকশায়। বৃষ্টি চাপা করতালিতে পড়ে, আর সিংহসহ মূর্তি অপেক্ষা করে, শুকনো আর স্বচ্ছন্দ। এতে এক শিক্ষা আছে। সত্যিকারের প্রভাব চাই ধৈর্য, স্থির হাত, আর শোনার ইচ্ছা। কেউ ভোরে উঠে বাগানের ছোট টুকরো দেখতে পারে, ভেজা মাটিতে হাঁটু গেড়ে, গজানো শিম আর ফার্নের মধ্যে। আরেকজন পুরোনো গাছের ঝাড়ে হাঁটতে পারে, থেমে রুক্ষ ছালে হাত রাখতে, ভেতরের শান্ত স্পন্দন অনুভব করে। রান্নাঘরে ঝোলের হাঁড়ি বাগানের শাক আর বুনো শাক দিয়ে ফোটে, খোরাক যা বন দিয়েছে। টেবিলে মোটা কাগজে চিঠি লেখা হয়, কথা অটুট বনের পথের মতো অবিচ্ছিন্ন।
আজকের ভাগ্যের রং বনের সবুজ।
Lucky Color: ForestGreen — #228B22চুপচাপ চলুন। আপনার শিকড় গভীরে।