সবচেয়ে পুরোনো গল্পে প্রেমিকযুগল এমন এক বাগানে মেশে, যেন সময়ের বাইরে। দুটি মূর্তি, ডালপালাওয়ালা এক গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে, বেড়ে ওঠা জিনিসে ঘেরা, যেগুলো চুপচাপ সম্ভাবনার কথা বলে। বাতাস ভোরের ঠিক পরের মতো, নরম আর মিষ্টি, পাকতে থাকা ফলের গন্ধে ভরা, আর দিনের গরমের আগে যে ঠান্ডা থেকে যায়। তাদের পা ঘাসে চাপে, রাতে জমা ফোঁটায় এখনো ভেজা, প্রতিটি পাতায় চকচক, সূর্য পুরো উঠলে যে সতেজতা মিলিয়ে যায় তার প্রতিজ্ঞা। বাগান শুধু এক জায়গা নয়, এক ডাক, প্রতিটি পথ পছন্দের দিকে বাঁকে।
এখানে ফল ভালো হয়, ফিকে আর গোল, ছুরির নিচে শাঁস সহজে দেয়। দূর দেশের হাটে এমন ফল দিনের শুরুতে চিরে ফেলা হয়, চকচকে ভেতর বেরোয়, স্বাদ সূক্ষ্ম আবার চেনা। সূর্য উঠলে শিশু আর পথিক দুজনেই এটা খোঁজে, চাঙ্গা করে, ভারি করে না। নাশতার টেবিলে এর থাকা মৃদু কিছুর শুরু জানায়, যে হাত তোলে, যে হাত দেয়, যে হাত পায়, তাদের মাঝের যোগ। কাছে মৌমাছি ফুলের কিনারায় জড়ো হয়, তাড়াহুড়ো নয়, ইচ্ছে করে, পৃথিবী যখন শান্ত, পাতা আর পাপড়িতে যে ফোঁটা জমে তার দিকে টানা।
প্রেমিকযুগলের বন্ধন এক ছোঁয়ায় শুরু হয় না, এই রোজকার অলৌকিকতার মাঝে চেনার এক কাজে। তারা টেবিল ঢাকা কাপড় দেখে, বছরের পর বছর নরম হওয়া আঁশে বোনা। এই কাপড় রান্নাঘরের জানলায় শুকিয়েছে, সকালের প্রথম আলো ধরে, শিশির আর বাতাসের সূক্ষ্ম স্মৃতি বয়ে। পাশের ঘরে হামানদিস্তা সেইখানেই, যেখানে সবসময় থাকে, পিষা ভেষজের অবশিষ্ট ধরে, দীর্ঘ ঋতু একে অন্যের যত্নের কথা, ভাগ করা ওষুধ আর ইচ্ছে করে রাঁধা খাবারের কথা মনে করিয়ে। ঘরের ভেতরের বাতাসেও শান্ত শুরুর গন্ধ, যেন দেয়াল নিজেই মৃদু সকালকে স্বাগত জানাতে শিখেছে।
ঘর আর বাগানের বাইরে, দূর পাহাড়ে রাখালরা শিশির জমতে আর মিলিয়ে যেতে দেখেছে। তারা এই ফোঁটাকে রাতের উপহার বলে, গোপন নৈবেদ্য, জোর করে বা তাড়ায় তোলা যায় না। কোনো কোনো উপত্যকায় ভোরের কুয়াশা এত নরম আসে যে দেখা যায় না, শুধু অনুভব হয়। বাগানের পথ ছোঁয়ায় পিছল করে, ভোরে জেগে থাকা মানুষকে দোরগোড়ায় থামতে ডাকে। এমন মুহূর্তে পৃথিবী যেন নিশ্বাস ধরে, সিদ্ধান্ত জরুরি হয়, আর বন্ধন দরকারে নয়, পছন্দে গড়ে।
প্রেমিকযুগলের গল্প এই খুঁটিনাটিতে দাঁড়ানো। ফল ভাগ করা, তাড়াহুড়োহীন সকাল, ভাঁজ করা আর খোলা শণের কাপড়, যত্ন করে ব্যবহার করা হামানদিস্তা। এই ইশারাতেই খোলা পছন্দ হয়, প্রতিটি বাগানের বেড়ে ওঠার প্রতিজ্ঞার প্রতিধ্বনি। আজ আপনি তাজা এক তরমুজ চিরে তার ঠান্ডা জিভে রাখতে পারেন। নরম শণের কাপড় টেবিলে বিছিয়ে জরুরি কারো সঙ্গে কথাহীন খাওয়া ভাগ করতে পারেন। ভোরে বাইরে পা দিয়ে ফুলের মাঝে মৌমাছির ধীর কাজ শুনতে পারেন, বা সুগন্ধি এক পাতা হাতে পিষে গভীর নিশ্বাস নিতে পারেন, মনে রেখে নতুন বন্ধন বেছে নেওয়ার সবচেয়ে ছোট কাজে শুরু হয়।
আজকের ভাগ্যের রং মধুর ফিকে সবুজ।
Lucky Color: HoneyDew — #F0FFF0মিষ্টতা আপনার পছন্দ চালাক।
দিন শান্ত প্রতিজ্ঞায় পাকে।