কার্ডের বাগানে দুটি মূর্তি ডালপালার নিচে দাঁড়িয়ে, আকাশ ছোপ ছোপ, তাদের হাত এখনো জোড়েনি, কিন্তু বাড়ছে। বাতাস পাতা দিয়ে আর তাদের গায়ের ওপর দিয়ে যায়, গ্রীষ্মের গোড়ার গন্ধ বয়ে, পছন্দের ভার। সেই মুহূর্তে তাড়া নেই, শুধু মন দেওয়ার ধীর খোলা, পৃথিবীর সাধারণ সৌন্দর্য কাছে চেপে আসে। বাগান পুরোনো গল্প মনে করিয়ে দেয়, যেখানে দুজন পাপড়ি আর সম্ভাবনায় ঘেরা হয়ে মেশে, একে অন্যকে বেছে নেওয়ার আর বড় অজানায় পা ফেলার রাজিতে তাদের জীবনের সীমা পাতলা হয়।
শিকড় আর ঝোলানো ডালের মাঝে সূক্ষ্ম ফুলের থোকা নিচের দিকে বাঁকে, বাতাসে প্রশ্নের মতো ঝোলে। বাগান নিজেই যেন ঝুঁকে শোনে, যেন পাথরের পথ আর নরম মাটি এখানে শুরু হওয়া প্রতিটি গল্প মনে রাখে। অনুষ্ঠানের অনুভূতি আছে, আরামও। মাটি নরম, প্রতিটি পায়ে ভ্যানিলা আর মশলার সবচেয়ে হালকা ছাপ ওঠে। কোনো কোনো জায়গায় এই ফুল দুর্লভতার জন্য দামি ছিল। শতাব্দী আগে বণিকরা নদীর ধার আর পাহাড়ি পথ দিয়ে এগুলো বয়ে নিয়ে যেত, বোনা ঝুড়ি আর রেশমে ভঙ্গুর রূপ বাঁচিয়ে। দূর দ্বীপে পাপড়ি বিয়ের মালায় চাপা হতো, গরমে তাদের সুবাসের প্রতিজ্ঞা পাকত।
অন্য জায়গায় এক কাচঘর শান্ত উদ্দেশ্যে গুঞ্জন করে। কুমোরের হাত মাটিতে দাগ, শিকড় উর্বর দোআঁশ বিছানায় বসায়। ফিকে ফুল কাচ ছুঁয়ে, প্রতিটি ধীরে খোলে। রান্নাঘরে সরু এক শুঁটি ছুরি দিয়ে চেরা হয়, বাতাসে মিষ্টতার স্মৃতি ছাড়ে। কখনো হাত বেছে নেয়, কখনো হৃদয়ের শান্ত সিদ্ধান্ত, যত্ন করার ভাগ করা কাজ, দুজন পাশাপাশি চেষ্টা বুনলে কী ফুটতে পারে তা দেখা। হাটে শুকনো ফুল গ্রাম হিসেবে মাপা হয়, স্বাদ আর ইতিহাসের জন্য দামি। ওষুধের দোকানে কাচের বয়ামে ভেজে, সুবাস দেয় আরোগ্যের মলম আর রসে।
প্রেমিকযুগলের মাঝের পছন্দ শুধু এক পথ আর অন্য পথের মাঝে নয়, পিছিয়ে থাকা আর সামনে পা ফেলার মাঝেও। ঘরের বেদিতে এই ফুলের মালা মূর্তি আর জানলার ধারে ঝোলানো হয়, সৌন্দর্য আর ভক্তির প্রতিজ্ঞা, যে ঢুকবে তার জন্য। পৃথিবীর স্যাঁতসেঁতে বনে কোনো মৌমাছি পাপড়ি খোঁজে, তাদের যাত্রা মানুষকে একত্র করার যাত্রার প্রতিধ্বনি, সুবাস, নকশা, প্রত্যাশায় টানা। আবহাওয়াও যোগ দেয়। এমন দিন আছে যখন ভেজা বাতাস ভারি ঝোলে, ফুলকে আরও চওড়া খুলতে ডাকে, বা হঠাৎ বৃষ্টি তাদের চ্যাপ্টা করে, দেখায় বেছে নেওয়া কত ভঙ্গুর আর কত দরকারি।
আজ আপনি এক মোমবাতি জ্বালিয়ে তার পাশে এক ফুল বা এক শুঁটি রাখতে পারেন, সাদামাটা এক হ্যাঁ দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্ককে সম্মান জানিয়ে। শুকনো পাপড়ি গরম দুধে ভেজাতে পারেন, মিষ্টতা ভালোবাসার রোজকার যত্নের কথা মনে করিয়ে দিক। জানলার টব বা এক টুকরো মাটি থাকলে বীজ মাটিতে চাপতে পারেন, কল্পনা করে কোন নতুন বন্ধন শেকড় গাড়তে পারে। যাকে ভালোবাসেন তাকে এক চিঠি লিখুন, কয়েকটি পাপড়ি বা গন্ধের এক ছাপ গুঁজে দিন, শান্ত নৈবেদ্য।
আজকের ভাগ্যের রং অর্কিড।
Lucky Color: Orchid — #DA70D6বাগানে দুই হাত মেশে, আর পৃথিবী এক মুহূর্তের জন্য ফোটে।