একটা তূর্য মেঘের ওপর ওঠে, পোঁতা আর এখন যা সাড়া দেয় তার মাঝের পর্দা ফুঁড়ে। অনেকদিন বন্ধ কফিন নিচু এক শব্দে সরে খুলেছে, মানুষ দাঁড়িয়ে, হাত আকাশের দিকে, মুখ ওপরের নিশ্চিন্ত খিলানের দিকে। শব্দ সেই উঁচু গম্বুজ দিয়ে চলে, অদেখা উচ্চতা থেকে গড়িয়ে নামে, স্পষ্ট আর হুকুমের সুরে, ভুল হওয়ার উপায় নেই। বিচার ডেকেছে, পৃথিবীকে শুনতেই হবে।
মাথার ওপর আকাশ চওড়া হয়ে আছে, ঝড় বা ছায়া নেই, বিস্তৃত, মেঘহীন। শতাব্দী ধরে নাবিকেরা এই আবহাওয়া খুঁজেছে, এমন অন্তহীন বিস্তার এত নরম আর দাগহীন যে মনে হয় সমুদ্র নিজেই ওপরের বাসার আয়না। এমন দিনে বণিকের জাহাজ টায়ার আর সিডনের বন্দর ছেড়েছিল, মাথার ওপরের শান্ত খিলানকে চিহ্ন ভেবে যে তাদের যাত্রা দেবতারা দেখবেন, ঝড় বা অন্ধ কুয়াশা বিঘ্ন করবে না। সেই এক বিরাট গম্বুজ লেভান্তের মরু বণিকদের অভ্যর্থনা জানাত, দিগন্ত এত দূরে যে পথ টলবে না এমন প্রতিশ্রুতি দিত। ভূমধ্যসাগর জুড়ে এই খিলান প্রাচীন সভাঘর আর বড় উপাসনালয়ের ছাদ হয়েছিল, পবিত্র ঘরের ছাদে আঁকা, শেষ হিসাবের অনুভূতি জাগাতে। এক আকাশ যা সব দেখে।
পুরাণ মনে রাখে এক নদী, যার জল এই একই পরিষ্কার বিস্তার প্রতিফলিত করত। পুরনো গল্পে দেবতাদের বয়ে নিয়ে যাওয়া এক পেয়ালা ভোরে জলের গা ছুঁয়ে যেত, এমন শিশির তুলত যা সকালের প্রথম আলো হবে। এমন স্বচ্ছতা দুর্লভ ছিল, আর যারা স্বপ্নে সেটা পান করত তারা জেগে নিশ্চিত হত যে তাদের পথ বদলানো উচিত, এক জাগরণ ঘটে গেছে। পেয়ালাটা নিজে গ্রীষ্মের বালু থেকে টানা কাচ পিটিয়ে বানানো, জানালার পাল্লা বন্ধ ঘরে রাখা ঘরের ধন। বছরের বাঁকে তা থেকে পান করা ছিল একান্ত এক অনুষ্ঠান, নীরবে শোনার সুযোগ যে পৃথিবী কী বলতে চাইছে।
বাগানে কিছু আইরিস এই উঁচু আবহাওয়ায় চওড়া হয়ে ফোটে, পাপড়ি তূর্যের আকার, সোজা ডাঁটায় কাঁপে। তুষার কেটে গেলে তারা ফোটে, চিহ্ন যে পুরনো ঋতুর ঘুম শেষ। বাচ্চারা এই ফুল তুলে চীনামাটির বাটিতে ভাসায়, জানালার ধারে জল বসায়, যেখানে পাপড়ি ওপরের আলো ধরে, কাচের ওপারে যা বার্তা অপেক্ষা করে তার নীরব নিমন্ত্রণ।
সেই এক নিমন্ত্রণ ভোরের আগের শান্ত ঘণ্টায়, যখন ঘর কোনো ভেতরের ডাকে সাড়া দিয়ে ওঠে। পর্দা সরিয়ে দেওয়া হয়, প্রথম পরিষ্কার আলো রান্নাঘরের টালির ওপর ঢেলে পড়ে। রাতভর কলসিতে রাখা জল নৈবেদ্যের মতো ঢেলে দেওয়া হয়, জমে থাকা যা ছিল তা খালি করার উপায়, গ্রহণের জন্য তৈরি হওয়া। সদ্য কাচা এক চাদর বিছানায় পাতা হয়, বাঁকের চিহ্ন, এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় পার হওয়ার অনুভূতি। দৈনন্দিন জীবনেও মেঘের ওপরের ডাকের জবাব এই ছোট কাজে দেওয়া যায়। জানালা ধুয়ে আরও দূর দেখা, অনেকদিন চুপ থাকা কাউকে চিঠি লেখা, দরজা খুলে আকাশের স্বচ্ছতাকে ঘরের ভেতর দিয়ে শ্বাস নিতে দেওয়া।
যেখানে তূর্য বাজে আর কফিন খোলে, ওপরের পরিষ্কার বিস্তার সাক্ষীও, প্রতিশ্রুতিও। সে বলে যা ঘুমিয়েছিল ওঠার জন্য তৈরি, বিচারের ডাক ইতিমধ্যে বেজে গেছে, আর যা লুকানো ছিল তা এখন খোলা বাতাসে দাঁড়াতে পারে। আজ একজন মানুষ জল বাইরে নিয়ে গিয়ে আকাশকে প্রতিফলিত করতে পারে, অথবা পাহাড়ের চূড়ায় হেঁটে ছাদ আর ক্ষেতের ওপর তাকাতে পারে, অথবা বিছানার চাদর খুলে আবার শুরু করতে পারে। প্রতিটি ইশারায় ডাকের জবাব মেলে, আর স্বচ্ছতা জোর ছাড়াই আসে।
আজকের ভাগ্যের রং আকাশের ফিকে নীল।
Lucky Color: Azure — #F0FFFFগোপনহীন আকাশই দিনের আশীর্বাদ।
যা স্পষ্ট তা দিয়ে শুরু করুন। বাকি সব পেছন পেছন আসবে।