মেঘের অনেক ওপর একটা তূর্য বাজে। তার স্বর গানের চেয়ে হুকুম, খোলা মাটির ওপর দিয়ে গড়ায়। নিচে মাটি নড়ে। স্মৃতিতে আধপোঁতা কফিন তাদের ঘুমন্তদের ছেড়ে দেয়। মানুষ ওঠে, মুখ তোলা, হাত বাতাসের দিকে বাড়ানো। ডাক নরম নয়। সে আকাশ চিরে যা লুকানো ছিল তা দিনের আলোয় টানে। এই নিস্তব্ধতায় ডাক হিসাবের মুখোমুখিও, নবায়নও। এমন এক মুহূর্ত যখন পৃথিবী তার পুরনো গল্পকে দাঁড়াতে বলে, নিজেদের হয়ে জবাব দিতে বলে।
কোথাও এক পুরনো যুদ্ধের পতাকার স্মৃতি হাওয়ায় কাঁপে। একসময় সে সৈন্যদলের সামনে বয়ে নেওয়া হত, ধুলোর বিপরীতে কাপড় গাঢ় আর সমৃদ্ধ, সকালের সংঘর্ষে সৈন্যকে সতর্ক করত। শতাব্দী ধরে এমন পতাকা জয়ের পর শহরের রাস্তায় মিছিল নিয়ে গেছে, বৃষ্টি আর ইতিহাসের হাতের ছোঁয়ায় কাপড়ে দাগ। যারা নিচে হেঁটেছে তারা বদলের প্রতিশ্রুতি টের পেয়েছে, আর সে যে বোঝা আনে তাও। ক্ষেতের কিনারে ভূমধ্যসাগরীয় ওকগাছে লাল রঙের পোকা লুকোয়, তার শক্ত খোলস বণিকদের লোভের জিনিস। তার গোপন কথা এক রূপান্তর, যা পারস্যের হাট থেকে ভেনিসের রঙের দোকানে গেছে, মাটির কলসি ভরেছে, যা ফোঁটা ফোঁটা ফুটন্ত কড়াইয়ে পড়ত। মেঘের ওপর তূর্য বাজলে, মনে হয় পুরনো যাত্রার প্রতিধ্বনি: রেশম পথের বণিক, মুদ্রা গুনতে গুনতে হাতে দাগ, রঙের কারিগর ভেজা পশম পিপেতে চেপে রাখে, হাওয়ায় শুকোনোর আগে।
নদী থেকে সদ্য কাচা, এখনও ভেজা এক পোশাক শহরের উঠানে দড়িতে দোলে। তার ভাঁজ পুরনো পুরোহিতের পোশাক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পণ্ডিতদের সাফল্যের দিনের ফিতা মনে করায়। এমন কাপড়, পরিশ্রম আর অনুষ্ঠানে দাগানো, সেই হাতের স্মৃতি ধরে যারা জল থেকে তুলে নিংড়েছে, আগুনের সামনে মসৃণ করেছে যাতে গা চকচক করে। ঘুমন্তদের জাগানো ডাক শুধু বড় আর ক্ষমতাশালীদের জন্য নয়, যারা শান্ত ঘরে হাতিয়ার ধারালো রেখেছে তাদের জন্যও। তাঁতের পাশের তাঁতি, ঠান্ডা ভাঁড়ারে চামড়া পাকানো কারিগর, বিয়ের জামার কিনারে বেদানার নকশা আঁকা সুইয়ের কাজের মানুষ।
এক ফল আছে যা ফসলের সময় ফেটে যায়, খোসা মোটা আর চামড়ার মতো, ভেতর রত্নের মতো বীজ আর আঠালো রসে ভরা। উৎসবের দিনে বাচ্চারা বাগানে দৌড়ে এমন ফল তোলে, কব্জি আর ঠোঁটে দাগ লাগে, হাসি ডাল কাঁপায়। মেঘের ওপরের তূর্য যেন এমন মুহূর্তে বাজে, যখন সাধারণ জিনিস উদ্দেশ্যে ভরে ওঠে, যখন পৃথিবী মনোযোগও চায় কৃতজ্ঞতাও। ভোজের পর মশলাদার মদের গন্ধ থেকে যায়, আর রান্নাঘরে হামানদিস্তা, জাফরান আর বেরি পিষে আঠালো, রূপান্তরের স্মারক হয়ে দাঁড়ায়। মাংস থেকে রং, রস থেকে কাপড়, পরিশ্রম থেকে উৎসব।
আজ কেউ বুক থেকে পরিবারের টেবিলের চাদর তুলে সম্মানিত অতিথির জন্য টেবিল পাততে পারে, অথবা হাটে হেঁটে দিনের প্রতিশ্রুতির নৈবেদ্য হিসেবে এক মুঠো পাকা ফল বেছে নিতে পারে। কেউ মোটা কাগজে চিঠি লিখতে পারে, সেই সময় মনে করে যখন মোমে সিল চাপা হত, আর যার স্বর আপনার মনে পড়ে তাকে পাঠাতে পারে। অথবা সকালের শান্তিতে তাকে ভুলে যাওয়া পিতলের পুরনো তূর্য পালিশ করতে পারে, তার শব্দ বাজতে দিতে পারে, জানালার ওপারের পাখিদের জন্য হলেও।
আজকের ভাগ্যের রং টকটকে লাল।
Lucky Color: Crimson — #DC143Cডাক বেজে গেছে। দাঁড়ান, সাড়া দিন।