নারীর হাত সিংহের চোয়ালে আরও জোরে চাপে। ধৈর্যের কোমলতা থেকে তাঁর মুঠো বদলায়, আর বিশাল বিড়ালের জিভ টানে পেছিয়ে কুঁকড়ে যায়। লোমের নিচের পেশি, একসময় শান্ত, এখন টানটান হয়। ভূদৃশ্য এমন জায়গা হয় যেখানে নিয়ন্ত্রণ আর বাধ্য করা জায়গা বদল করে। যা বিশ্বাসের নাচ হিসেবে শুরু হয়েছিল, ইচ্ছার লড়াই হয়ে যায়, সব সেই পুরোনো রোদের নিচে যা মাটি সেঁকে আর ঘাস শুকায়।
প্রাচীন শহরের হৃদয়ে রাজমিস্ত্রির কারখানার পেছনে এক ভাটা জ্বলে। কাদা, বুড়ো আঙুল আর তালুতে গড়া, উনুনে ঢোকে ভঙ্গুর আয়তাকার হয়ে, বেরোয় খণ্ড হয়ে, শক্ত আর জ্বালা, দেয়ালে স্তূপ। রাজমিস্ত্রির কাজ সময়ের কলা। তাপ কম হলে খণ্ড গুঁড়ো হয়, বেশি হলে ফেটে যায়, কিনারা বাড়াবাড়িতে ভঙ্গুর। এই খণ্ড উঠোন বাঁধে, স্নানাগার আর মন্দিরের সীমানায় সারি হয়, শৃঙ্খলার ভিত্তি কিন্তু বাদ দেওয়ারও। সভ্যতার দাগ আর তার দেয়াল। এই শহরে শক্তি মাপা হয় কী বানানো যায় তাতে, আর কী বাইরে রাখা হয় তাতেও।
ভোরে রান্নাঘরের ওপর চিমনি ধোঁয়ায়, যেখানে রুটি সেঁকে আর কেতলি ফোটে। উনুন সেই একই খণ্ডে মোড়া, দীর্ঘ শীত আর দ্রুত মেজাজের ভেতর তাপ ধরে রাখে। রাঁধুনির হাত কখনো কোমল, কখনো তাড়া বা ক্ষুধায় বাধ্য, আগুন নাড়ানো শিককে আরও গভীরে অঙ্গারে ঠেলে। রুটির খোসা খুব তাড়াতাড়ি হয়, আর আগুনের ক্ষুধা তীক্ষ্ণ হয়। বেশি তাগিদ দিলে খাবার পুড়ে যায়। খোরাক এক লড়াই হয়ে যায়, রাঁধুনির ইচ্ছা আগুনের বন্য টানের বিরুদ্ধে।
দেয়ালের বাইরে মাঠ নালা আর আবহাওয়ার মেজাজে দাগানো। হাওয়ার ধৈর্য ফুরোলে পূর্ব থেকে ঝড় ঢোকে, মাটি শক্ত বৃষ্টিতে পেটানো হয়, প্রতি ফোঁটা শতবছরের ভারে পড়ে। কিছু জায়গায় মাটিতে পুরোনো ইটের কারখানার অবশেষ ছড়ানো, টুকরো পুরোনো রাস্তার গর্তে ছড়ায়। এই টুকরো সেই হাতের কথা মনে করায় যারা চেপে গড়েছে, আর সেই আগুনের কথা যা দেওয়ার চেয়ে বেশি চেয়েছিল। মাঠ ভাগ ভাগ পরিশ্রমের উত্তরাধিকারে আর তাপের অবশেষে। সীমানা কোমলতায় নয়, জোরে দাগানো।
গল্পের বন্দরে ব্যবসায়ীরা একসময় জাহাজের খোলে খণ্ড স্তূপ করত, ঢেউয়ের বিরুদ্ধে ভার, আর নাবিকেরা ঘামত আর গাল দিত। ভার বেশি হলে খোল কাতরাত। কম হলে জাহাজ ঘুরে বেড়াত। ভারসাম্য সবসময় অস্বস্তি ছিল। যত্নশীল বিচারে টিকে থাকা এক মিল, সবসময় বাড়াবাড়িতে হেলার ঝুঁকিতে। এই হাতিয়ার, এই কাজ, এই জায়গা, সব শক্তির দুই ধার দেখায়, যখন চাপ বাধ্য করা হয়, আর যে হাত স্থির করে সে মুষ্টি হয়ে যায়।
আজ ভাবুন, অনেক আগে বসানো এক ইট বা পাথর ছুঁতে হাঁটু গেড়ে, হাত রেখে যতক্ষণ না তার উষ্ণতা বা ঠান্ডা অনুভব করেন। পুরোনো কাদায় মোড়া উনুনে রুটি সেঁকতে পারেন, খোসা যত্নে দেখে, ধৈর্য পরীক্ষা করে। হাওয়ার এক মুহূর্তে বাইরে দাঁড়ান, বাতাসের জোর আপনাকে নোয়া আর ঠেকার ভারসাম্য মনে করিয়ে দিক। অথবা এক মুহূর্ত এক পুরোনো হাতিয়ার দেখুন, সাঁড়াশি, আগুনের শিক, রাজমিস্ত্রির হাতুড়ি, আর ভাবুন গড়া আর জোর করার মাঝের রেখা, তাদের হাতলে চাপা ইতিহাস।
আজকের ভাগ্যের রং ইটের রং।
Lucky Color: FireBrick — #B22222কোমলতা আপনার হাত চালাক, যেখানে জোর দিনকে শুধু শক্ত করত।
যে শক্তি নোয়ে, সে ভাঙা শক্তির চেয়ে বেশি টিকে।