ঘরের মাঝে এক টেবিল দাঁড়িয়ে, হাতিয়ারের এক ছড়ানোর আয়োজক। বছরের পিষে মসৃণ এক নড়, কলঙ্ক-ধরা এক মোমদান, এক পুরনো ছুতোরের রান্ডা যা একসময় এখন সময়ের কাছে হারানো এক কুটিরের কড়িকাঠ গড়ত, আর বারবার ওলটানো একতাড়া কার্ড, অজস্র হাতে তাদের মুখ ম্লান। জাদুকরের প্রতিশ্রুতি, সোজা থাকলে, দক্ষতা আর ইচ্ছের এক প্রদর্শন। সেই জায়গা যেখানে ঠিক হাতিয়ার ঠিক কাজের সঙ্গে মেশে। উলটো করলে নিয়ম আলগা হয়। হামামদিস্তা গাছ নয়, গোপন কথা পিষে। মোমদান জ্বলে, অদ্ভুত ছায়া ফেলে, এক জিনিসকে অন্য জিনিস মনে করায়। কিছুই ঠিক যা মনে হয় তা নয়, কিন্তু সবই হাতের কাছে।
এটা চিমনি ঝাড়ুদারের জগৎ, দিনের শেষে হাপরের কামারের, তাদের হাত নিজেদের কাজের অবশেষে দাগি। এগুলো নিচু মেঘে ভ্রুকুটি করা আকাশের নিচের ছাদ, দিগন্ত ঝাপসা, দিন আর সন্ধ্যার সীমার মতো। উত্তরের মুরভূমিতে পাথরের দেয়াল, শতাব্দীর বৃষ্টিতে ক্ষতবিক্ষত, শহরের গলির সেই একই আবরণ পরে, ঝড়ের পর যখন রাস্তা পিছল আর কুয়াশা নর্দমা থেকে হামাগুড়ি দেয়। ইতিহাসে সেই চতুর পকেটমার এই গলি পেরোয়, তার কোট জমা কুয়াশায় মিশে যায়, পকেটে প্রতিদিনের জাদুর ভাঙা টুকরোয় ভরা। এক সেলাইয়ের আঙুলের টুপি, এক চাবি, রেলে চাপা হয়ে চ্যাপ্টা এক মুদ্রা।
পুরাণে চতুর কারিগরের সঙ্গে দেখা করে। হাতুড়ি ধার নেওয়া হয় পেরেক মারার জন্য নয়, এক ধাঁধা ভাঙার জন্য। উনুন থেকে গত রাতের ছাই বাগানে ঝাঁট দেওয়া হয়, কূপের পাশ বেয়ে ওঠা শৈবালের শিকড় পোষণ করে। নমুনা আর নিখুঁত নকল নয়। তার বদলে এক ধাঁধা, এক হাতসাফাই। কৌশল নতুন কিছু বানানো নয়, জানাকে নতুন করে সাজানো। আলমারির কব্জাকে তালা খোলার সরু হাতিয়ারে বদলানো, রান্নাঘরের হাতাকে ঘণ্টায়, ছাদ থেকে উদ্ধার করা পুরনো উলের কোটকে মিলিয়ে যাওয়ার অভিনয়ের চাদরে।
বাইরের আবহাওয়া এক স্থির, গুঁড়ি চাদর, যা পায়ের শব্দ চাপা দেয় আর পৃথিবীর সংকেত একটানা এক নিস্তব্ধতায় আটকে দেয়। এমন কুয়াশা যা জানালার ফাটল দিয়ে ঢোকে আর সিঁড়ির কোণে জমে। পথিকেরা কাঁধ কুঁচকে রাখেন, জুতা রাস্তার ধুলোয় মাখা, হাত পকেটে। দিনের জাদু চুপচাপ খেলে। রেলের কুলির টুপি বাঁকা করে পরা, চেয়ারের হাতলে দরজির পিনের তোষক, জানালার ধারে ঠান্ডা হতে থাকা এক চা-কাপ। প্রতিটি জিনিস এক গল্প ধরে রাখে, কিন্তু এই আলোয় গল্প অর্ধেক বলা, মজার শেষ লাইন নিশ্বাসের নিচে ফিসফিস।
এই আবহাওয়ায় হাঁটা মানে ধৈর্যের অনুশীলন, সূক্ষ্ম নড়ার জন্য ইন্দ্রিয় শান দেওয়া। আপনি পুরনো কেটলি পালিশ করতে পারেন, তার পৃষ্ঠে ঘর সাঁতরাতে দেখতে পারেন, বা বছর ধরে আটকে থাকা এক দরজার কব্জায় সাবধানে তেল দিতে পারেন। ক্ষুধা এলে রাইয়ের রুটির এক টুকরোতে মাখন মাখিয়ে আগুনের ধারে ধীরে খান। দিনের কাজে চালাকি অনুভব করলে লেখার টেবিলের জিনিস নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করুন, কলমদানি আর কাগজচাপা বদল করুন, দেখুন লুকোনো থেকে কী ভাবনা বেরিয়ে আসে।
আজকের ভাগ্যের রং ম্লান ধূসর।
Lucky Color: DimGray — #696969কুয়াশায় জিনিস খুঁজুন, আর সাধারণের মধ্যে উপায়।