কার্ডের চাকা ঘোরে, মাটি আর আকাশের চিহ্ন আঁকা, আর জীবজন্তু নানা ধাপে উঠছে বা নামছে। সবসময় একটা মুহূর্ত আসে, যখন চাকা চূড়ায় উঠে আবার নামে, আর তার কিনারা রোদের ঝলক ধরে। এক ঝলকের জন্য উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, দিনের বদল বা ঋতুর ঘোর জানিয়ে দেয়। পুরোনো গল্পে চাকার চলা ভাগ্যের সঙ্গে বাঁধা ছিল। তেমনি পুরোনো পাহাড় আর নদীর উপত্যকায় মানুষ ভাগ্যের ছোঁয়া মাটিতে হাত দিয়ে খুঁজত। খালের তলায় পেত, পাতলা টুকরো আর ডেলা, যা সোনা-খোঁজা মানুষদের পথে নামিয়ে দিত। কখনো একটা পুরো শহর উঠত আর পড়ত, ধোয়ার পাত্রে পাওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে, বা পলি থেকে চালা হয়ে বের হওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
এই প্রতিশ্রুতি গল্প আর ইতিহাস গড়েছে। দূর পাহাড়ের নদীতে রাজারা লোক পাঠাত ভেড়ার পশম ধুতে, বিশ্বাস ছিল লোম ভারী হয়ে উঠবে চকচকে ধাতু নিয়ে। সোনা-মোড়া শহরের কিংবদন্তি আছে, ছাদ আর মূর্তি দুপুরের রোদে ঝিকমিক করত, মহাদেশ আর সমুদ্র পেরিয়ে অভিযাত্রীদের টানত। মন্দির উঠেছে। তাদের গম্বুজ আর চূড়া পিটিয়ে এমন চকচকে করা হত যেন দ্বিতীয় ভোর, দেবতা বা ভাগ্য নিজেই চোখ ফেরায় বলে। হাটে রাজাদের মুখ আঁকা মুদ্রা হাত থেকে হাতে যেত, ভাগ্যের বা উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষণিক চিহ্ন।
ঘরের কাছে, চুপচাপ কোণে তল চকচক করে। নতুন শুরুর জন্য আঙুলে পরানো একটা আংটি, অনিশ্চিত দিনের আগে হাতে চেপে ধরা বংশের লকেট, হঠাৎ বদলের আশ্রয় হিসেবে দেরাজে লুকোনো সোনার ছোট দণ্ড। রান্নাঘরে কাচের বয়ামে মধু জ্বলে, রুটির উপর ধীরে, ঘন হয়ে ঢালা হয়। জাফরানের সুতো গরম জলে ভেজে, নতুন রান্নায় গন্ধ আর আশা দেয়। ফসলের স্থির ঝিলিক, গমের দানা, ভুট্টার মোচা, বসন্তের প্রথম বুনো ফুল, ঘুরন্ত চক্রের প্রতিধ্বনি। ওঠা আর নামা দুটোই, ভাগ্য সবসময় সময়ের অক্ষে ঝুলে থাকে।
আবহাওয়াও সেই মুহূর্তে চেনা যায়, যখন ভারী মেঘ ভেদ করে রোদ নামে, মেঝেতে আড়াআড়ি একটা আলো, ধুলোর কণার মাঝে জোড়াতালি। এমন আলো ছোট গির্জার রঙিন কাচ ভেদ করে, জপের মালা আর চুপচাপ মুখের উপর পড়ে। সেই আলোই দুপুরের ঘণ্টা বা সন্ধ্যাপ্রার্থনার সময় চূড়ার ক্রুশকে সোনায় রাঙায়, মেঘ আবার জুড়ে যাওয়ার আগে এক ঝলকের স্ফুলিঙ্গ। দুর্লভ আর উজ্জ্বল কিছু এক ঝলক দেখা, দিকনির্দেশক মোরগের ঝিলিক হোক বা স্বচ্ছ ঝরনায় মাছের ঝলক, আপনাকে মনে করিয়ে দেয় চাকার ঊর্ধ্বমুখী ঘোর খেয়াল করতে, যত ক্ষণস্থায়ীই হোক।
আজ আপনি একটা মুদ্রা উলটে তার উঁচু কিনারা আঙুল দিয়ে ছুঁতে পারেন, বা বিকেলের চায়ে মধু গলিয়ে কাপে ধীর ঘূর্ণি দেখতে পারেন। প্রতিশ্রুতির কথা বা ভাগ্যের সম্ভাবনা মনে রাখতে আঙুলে একটা আংটি পরতে পারেন। কিংবা সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে টেবিলে এক বাটি পাকা খুবানি রেখে আগের ফসলের কথা ভাবতে পারেন, স্বাদ মিষ্টি আর ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রতিটি কাজ একটা ঘোর, পৃথিবী যে ওঠানামা দেয় তাতে যোগ দেওয়া।
আজকের ভাগ্যের রং সোনালি।
Lucky Color: Gold — #FFD700চাকা ঘুরুক। প্রতিটি চূড়া আর নামাকে স্বাগত জানান।
রোদ আপনার পক্ষে চলে।