এক বেদি, এক মশাল, ঢিলা হলে খুলে যায় এমন শেকল। এগুলোই কার্ডের স্তম্ভ, প্রতিটা জগতে সত্যি জিনিস, প্রতিটা ঘরের জিনিস বা জায়গার নিদর্শন। বেদি এক ভুলে যাওয়া প্রদর্শনশালায় দাঁড়িয়ে আছে, কালো আগ্নেয় পাথর কেটে বানানো, ছোঁয়ায় ঠান্ডা, হাতের নিচে মসৃণ। তার ওপর এক মোমদান শোয়, এককালে খনিশ্রমিকের কুঁড়েতে পাওয়া, সেই রকম যা কয়লার আগুনের পাশে আর ঝুল-ধরা কড়িকাঠের নিচে বছর কাটিয়ে কয়লার কালো দাগ বয়ে আনে। শেকল, এককালে টানটান, শহরের ঢালাইঘরের চুল্লির দরজা ধরে রাখা লোহার বেড়ি, তাদের আংটিতে খাটুনির স্মৃতি আর সেই মানুষের ঘামের দাগ যারা তাপ বড্ড বাড়লে খুলে বেরোতে শিখেছিল। এগুলো স্বপ্নে ভাসা প্রতীক নয়, সেই মাটির জিনিস যা মানুষ ভূগর্ভের পুরনো কোণে আর মাটির গভীর স্তরে খুঁজে পায়।
ইচ্ছে এক হাতিয়ার, যখন তাকে দেখা যায়। এটাই কামারশালার শিক্ষা, যেখানে নেহাই শতাব্দীর হাতুড়ির আঘাতে দাগওয়ালা। শীতের রাতের হৃদয়ে এক চাদানি কাঠের চুলার ওপর ঝোলে, সেই একই জেদের তৈরি যা প্রাচীন সিম থেকে হিরে তোলে। ঘর আখরোটের তক্তায় মোড়া, আর এক দরজার পেছনে এক ছাতা, তার ছাউনি বর্ষার বাজারের চকচকে রেশম, এত অভেদ্য যেমন আগ্নেয় কাচ যা বণিকেরা এককালে ফাটল-উপত্যকা থেকে দূর বন্দরে নিয়ে যেত। সেই একই বৃষ্টিতে কাদা জুতায় লেগে থাকে, রাস্তা আকাশের আয়না করে। এক শহর কয়লার ধোঁয়া আর সূর্য গেলা মেঘে ঢাকা, প্রতিটা রাস্তার বাতি দ্বিগুণ জোরে জ্বলে।
বেদির ওপর মোমদান জ্বলে ওঠে। আগুন এক বইয়ের মলাটের কিনারায় ধরে। চামড়া, অনেক হাতের ছোঁয়া, সেই রকম যা গ্রন্থাগারে পাওয়া যায় যেখানে মেঝে বছরের নরম জুতোর পায়ে দাগ। কাছে এক তাকে শুকনো কুঁচকানো ডুমুর, সেই পথের সুস্বাদু জিনিস যেখানে আগ্নেয় মাটি প্রাচীন বাগানের শিকড় খাইয়েছে। বাইরে কাক জমে, তাদের পালক মাঝরাতের বৃষ্টির চকচক ধরে, সকালের উচ্ছিষ্ট বা রুটির দোকানের চিমনির উষ্ণতার অপেক্ষায়। এই প্রতিটা জিনিস আকাঙ্ক্ষার পাত্র। লোহার চাদানি, কালো আগ্নেয় পাথর, চামড়া-বাঁধাই বই, ঝড়ের অপেক্ষায় ছাতা। তাদের দেখা হয়, ছোঁয়া হয়, ধরা হয়, ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহার জানায়, আঁকড়ে ধরায় নয়।
পাহাড়ে এক বড় গির্জা আছে, আগ্নেয়গিরির পাথরে গড়া, ঝড়ের মেঘের চেয়েও গাঢ়, তার খিলান হিদার ঝোপের ওপর ওঠে। তীর্থযাত্রীরা আসে যখন রাত সবচেয়ে ঘন, লণ্ঠনের পথ দেখিয়ে যা হাওয়ায় কেঁপে ওঠে। তাদের মধ্যে সেই বণিক হাঁটে যে শান পাথর বেচে, রাজমিস্ত্রির কোমরবাঁধা কাপড় শক্ত বাঁধা, পকেট নদীর নুড়িতে ভরা, বরইয়ের ভিতরের মতো মসৃণ। পথ গত রাতের ঝড়ের অবশিষ্টে ভেজা, বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ আর ভোরে সেঁকা রুটির প্রতিশ্রুতি। এখানে, বোধ আর হিসাবের কিনারে, ইচ্ছে এক হাতিয়ার হয়ে ওঠে, সেই শেকল যা কবজির ঠিক বাঁকে ঢিলা হয়ে খুলে যায়।
আজ একজন ঢালাই-লোহার কড়ার হাতল এতটা ঘষতে পারে যে তল স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে, বা ছাতা খুলে তার টানটান গায়ে বৃষ্টির ঢোল শুনতে পারে। তারা ঝড়ের পর নদীর পাড় থেকে মসৃণ পাথর কুড়োতে পারে, বা পুরনো জানালার ধারে এক মোমবাতি জ্বালিয়ে ছায়া বাড়তে দেখতে পারে। এই ছোট কাজ আত্মাকে জগতে গেঁথে দেয় যেমন সে আছে, যেখানে ইচ্ছে দেখা যায়, লুকানো থাকে না।
আজকের ভাগ্যের রং কালো।
Lucky Color: Black — #000000বেদি হাত স্থির রাখুক, মশাল শেকল আলোকিত করুক।
এটা দেখার রং, আঁকড়ে ধরার নয়।