শয়তানের কার্ডের শেকল এখন ঢিলা। যেখানে এককালে বাঁধত, এখন ঝোলে। গলায় গয়না, এককালে থেঁতলানো কবজির বালা। পাথরের ভূগর্ভঘরে এক নিস্তব্ধতা, বাতাস বাসি কিন্তু অক্ষুণ্ণ, যেন ছায়ায় কুঁকড়ে থাকা আকার মার্বেলের চাঙাড়ির অনেক নিচে সরে গেছে। পুরনো গল্পে কুরে খাওয়া জিনিস সবসময় পালায় না, কখনো শুধু উপেক্ষিত হয়, নিষ্প্রভ সাজ বানানো হয়। মন তার পুরনো বেড়ি দিয়ে এক মালা গড়ে, নিস্তব্ধতায় বসে, নড়ে না।
জগতে এমন জায়গা আছে যেখানে প্রাচীন জন্তু শিকারের চিহ্ন হয়ে ওঠে। সাবধান হাতে খোদাই করা হাতির দাঁত, মসৃণ তল ঠান্ডা, ভারী, রীতি আর বেচাকেনার শতাব্দীতে চকচকে ক্ষয়ে যাওয়া। পশ্চিম আফ্রিকার রাজ্যে হাতির দাঁত ইতিহাস বলত, রেখা আর গল্প খোদাই, প্রতিটা মোচড় আর ঢেউ রাজাদের আর নীরবে দীর্ঘ পথ হাঁটা হাতির দাগ। প্রাসাদ সেগুলো জয়ের চিহ্ন হিসেবে দেখাত, জন্তুর জয় নয়, নিজের গাঢ় ক্ষুধার জয়, কুচকাওয়াজ আর অনুষ্ঠানে সাজানো। বাণিজ্যপথ আর্দ্র বন আর ধীর নদীর ভিতর দিয়ে এঁকে যেত, বিকেলের শেষে জমা বজ্রমেঘের পাশ দিয়ে, যেখানে বাতাস ঘন হয় আর বৃষ্টির আগে জগৎ নিরিবিলি হয়। সম্পদ মালবাহকের পিঠে চড়ত, দূর ভাগ্যের প্রতিশ্রুতিতে ঝিলমিল, তবু প্রতিটা দাগ হারানো জীবন্ত জিনিসের স্মৃতি ধরে রাখত।
কোথাও গির্জার পবিত্র ধ্বংসাবশেষের পাত্র আলোর এক রশ্মিতে ঝিলমিল করে, এক সাধুর দাঁতের পাত্র, এক শহিদের পাঁজরের কুচি। বেদি চাবি আর তালায় সাজানো, আর নিস্তব্ধতায় ধূপ ওপরে পাক খায়, গন্ধ সেলাই করা কাপড়ে লেগে থাকে। সমাগত মানুষ অর্ধনীরবতায় বসে, অতীতের বোঝা উপস্থিত কিন্তু না-দেখা, যেন পবিত্র চিহ্ন তাদের যা বয়ে আনে সব থেকে মুক্তি দিতে পারে। চাবি আংটা থেকে ঝোলে, অব্যবহৃত, দরজা ফাঁক। এখানে কিছুই শক্ত করে আটকানো নয়।
বাইরের আবহাওয়া নরম, জেদি। বসন্তের নরম কুয়াশা, নদী থেকে গড়িয়ে আসা, ক্ষেত আর শহরকে ঠান্ডা ঘেরা কুয়াশায় মুড়ে। জগৎ ঘোলা, শক্ত কিনারা নরম। মানুষ নীরবে চলে, তাদের পায়ের নিস্তব্ধতা পাথরে প্রতিধ্বনি তোলে, যেন ধ্বংসাবশেষ আর খোদাই করা বাক্সের ভিতরের ঘুমন্ত স্মৃতি না-ঘাটায়। রান্নাঘরে হাত এক থালায় শোয়া নোড়ার দিকে বাড়ে। মসৃণ, ঘন, বছরের ব্যবহারের দাগ। সকালের খাবারের জন্য শিকড় আর খোসা বাটে। সেই একই জিনিসের পেয়ালা আর বাটি তাক সাজায়, প্রজন্ম ধরে চলা উত্তরাধিকার, এমন চেনা যেমন শেকলের শেষের ভার যা কেউ ঠিক খুলতে চায়নি।
তবু শেকল ঢিলা। তার শেষের ভারী জিনিস এক মুহূর্তের জন্য হলেও সরিয়ে রাখা যায়। একজন হাতের তালুতে নোড়া নিয়ে থামতে পারে, কত সহজে নামিয়ে রাখা যায় তা লক্ষ করে। তারা কুয়াশার ভিতর দিয়ে হাঁটতে পারে, চামড়ায় আলতো বসতে দিতে পারে, মনে করিয়ে দিতে পারে সীমা সরে, আর পুরনো ধ্বংসাবশেষের পাত্রের সবসময় যত্ন দরকার নেই। তারা এক স্মারকের খোদাইয়ে আঙুল বুলাতে পারে, মনে রাখতে পারে গল্প সেই হাতে গড়ে যা ধরে, শুধু পেছনে পড়া ছায়ায় নয়। তারা তাকের জিনিস ঘষে চকচকে করতে এক নিরিবিলি ঘণ্টা নিতে পারে, পবিত্র বলে নয়, যত্ন নরম হতে পারে বলে, বাঁধা নয়।
আজকের ভাগ্যের রং হাতির দাঁতের রং।
Lucky Color: Ivory — #FFFFF0শেকল হয়তো ইতিমধ্যে আপনার কবজি থেকে পিছলে গেছে।
আলতো পা দিন। ছায়া আর আঁকড়ে ধরে না।