এক একা মূর্তি সরু পথে দাঁড়িয়ে আছেন, লাঠি মাটিতে শক্ত চেপে, লণ্ঠন হাতের দূরত্বে। পাহাড়ি বাতাস শুকনো, পায়ের নিচের পাথর ক্ষয়ে যাওয়া চামড়ার আভায় ধুলোমাখা। প্রতিটি পা মাপা, প্রতিটি থামা ইচ্ছাকৃত। লণ্ঠনের কাঁপুনি শুধু নাগালের ভেতর যা আছে তা ছোঁয়। তার বাইরে পৃথিবী শান্তে সরে যায়। এ এমন হাঁটা যা নেওয়া হয় যখন শুধু নিজের সঙ্গ দরকার, যখন পৃথিবীর শোরগোল সরে যায় আর পথের খুঁটিনাটি ইন্দ্রিয়ের সামনে ওঠে।
অনেক আগে, যে মরুভূমি পেরিয়ে ঘুরে বেড়ানো তপস্বীরা তাদের যাত্রা দাগাত, মাটি তাদের চটির রং প্রতিফলিত করত। গরুর চামড়া থেকে গড়া, মোটা আর নমনীয়, বছরের ব্যবহারে আকার পাওয়া। এই তীর্থযাত্রীরা মোম মাখা কাপড়ে মোড়া রুটি বয়ে নিত, তার বুনন সকালের রোদ ধরত, হালকা শস্য আর যে হাত মাখেছে তার গন্ধ। সবচেয়ে পুরোনো মঠে ভিক্ষুরা শুকনো নলের ঝাড়ু দিয়ে মেঝে ঝাড়ত, তাদের হাত কাজে রুক্ষ। আঁশ সময়ের সঙ্গে মসৃণ চকচকে পর্যন্ত ক্ষয়ে যেত, ধ্যানের পরিশ্রমের শান্ত সাক্ষী। তীর্থযাত্রীরা বিশ্রামের জায়গায় থেমে চ্যাপটা বোতল ভরত, জল এমন কলসি থেকে তোলা যার গা বছরের ছোঁয়ায় চকচকে, যাত্রা আর নীরব প্রার্থনার অবশেষে দাগানো।
উত্তরের জমিতে রাখালেরা কাঠ থেকে বাটি আর চামচ গড়ত, তাদের গা মোমে ঘষে যতক্ষণ না নরম জ্বলে। এই বিনয়ী পাত্র উনুনের ধারে একাকিত্বে খাওয়া বেলা চিহ্নিত করত। রেশম পথে ব্যবসায়ীরা কাশ্মিরী পশমের আঁটি খুলত, সূক্ষ্ম তবু মজবুত, উষ্ণতা আর হালকার জন্য দামি। তারা ঠান্ডা হাওয়ার হুলের বিরুদ্ধে নিজেদের জড়াত, খোলা আকাশের নিচে কাটানো রাতের জন্য দ্বিতীয় চামড়া। পৃথিবীর শান্ত কোণে পণ্ডিতেরা প্রাচীন পুঁথি চামড়ার কাগজে পাতত, গা পশুর চামড়া যত্নে চেঁচে খসখসে। আঙুল কালির রেখা অনুসরণ করত, অন্যরা মোমবাতির নিস্তব্ধতায় জ্ঞান খুঁজে রেখে গেছে।
এমন দিন আছে যখন পৃথিবী সরু হয় আর যা আমাদের সবচেয়ে স্বস্তি দেয় তা মৌসুমের ব্যবহারে পাকা জিনিস। বছর ধরে বই বয়ে নেওয়া এক মোটা সুতির ঝোলা, ছুরির নিচে খড়খড় করা খোসার এক রুটি, প্রিয় মগ যার হাতল হাতে এমন বসে যেন একাকিত্বের জন্য গড়া। শহরের জায়গাতেও সকালের হাঁটার মানুষের পায়ে ক্ষয়ে যাওয়া পথের টুকরো, বা উদ্যানের কিনারায় ক্ষয়ে যাওয়া হাতল, সেই একই মাটিতে থাকা উপস্থিতি দিতে পারে। সময় আর ইচ্ছায় ছোঁয়া এই জিনিস সচেতনতার এক ছোট বৃত্ত গড়ে, অন্ধকারে সন্ন্যাসীর বাতির মতো।
আজ এই অনুভূতি বাড়াতে কিছুক্ষণ চেনা পথে একা হাঁটুন, নিচের মাটি লক্ষ করে। দুপুরের খাবার পাতলা মোড়কের বদলে কাপড়ে মুড়ুন, হাতে গঠনের তফাত অনুভব করুন। সন্ধ্যার আগে হাতের ঝাড়ু দিয়ে ঘরের এক অংশ ঝাড়ুন, যে নরম শব্দ করে তা শুনুন। বহু বছর দেখেছে এমন এক জিনিস হাতে নিন, এক কাঠের চামচ, চামড়ায় বাঁধাই বই, অনেক ভালোবাসা পাওয়া ঝোলা, আর আপনার ভাবনা বর্তমানের কাছে বসতে দিন।
আজকের ভাগ্যের রং হলদে বাদামি।
Lucky Color: Tan — #D2B48Cএকাকিত্ব বাতি হোক। শান্ত কাজ আপনাকে স্থির রাখুক।