হলের সামনে উঁচু পিঠের চেয়ার খালি দাঁড়িয়ে। সোজা সময়ে এক মূর্তি সেখানে বসতে পারতেন যখন জমায়েতের ওপর নীরবতা বসত, বাতাস ধূপে ঘন আর পাতার হালকা খসখস। এখন আসন দাবিহীন, অনুষ্ঠানের ছাঁচ টিকে থাকে কিন্তু প্রাণ অন্যত্র ঘুরে গেছে। বই বেদির মাঝখানে খোলা, পাতা কাঁপে, কিন্তু কোনো গলা ফাঁক ভরে না। নীরবতা অনুপস্থিতি নয়, রীতির নিচে চলা এক নিচু গুঞ্জন। চেনা ইশারা শুধু এ কারণে করা যে সবসময় করা হয়েছে।
পুরোনো গল্পে এমন মুহূর্ত মোড়ে আসে। এক পুরোহিত আগ্নেয় ঢালে দাঁড়ান, তাঁর চটি ঠান্ডা পাথরে ডোবে, যেখানে শত বছর আগে পাহাড় আকাশে ধোঁয়া আর ক্ষুধা উগরে দিয়েছিল। একসময় শহরের মানুষ কিনারায় জড়ো হয়ে এক রুটি বা মদের কলসি দিত, বিশ্বাস করে নিচের গর্জনকে শান্ত করতে পারবে। বছর যায়, আর পাহাড়ের মুখ ছাই আর ভুলে যাওয়া মুদ্রায় জমাট বাঁধে। পথ এখনো হাঁটা হয়, কিন্তু প্রার্থনা পাতলা, শুধু পাথরে প্রতিধ্বনি তোলে। শেষ অগ্ন্যুৎপাতের অনেক পরে জন্ম নেওয়া শিশুরা কিনারায় খেলে, গভীরে নুড়ি ছুড়ে এমন উত্তর শোনে যা কখনো আসে না।
রান্নাঘরে ঢালাই লোহার ভারী কড়াই আঁকশি থেকে ঝোলে, উপর দশকের রাতের খাবারে পাকানো। রাঁধুনির হাত স্মৃতিতে কাজ করে, দিদিমা যেমন করতেন তেমন গোল পিঠা উলটে দেয়, যদিও পরিবারের রান্নার নিয়ম অনেক আগে তার অর্থ হারিয়েছে। কী তাকে বিশেষ করত আর কেউ মনে রাখে না। তবু কড়াই প্রতি রবিবার ব্যবহার হয়, তার ভারি ভার এক স্বস্তি। আরেক দিন এক দর্জি বাতির কালিতে দাগী আঙুলে এক কোট মেরামত করে, মরতে থাকা আগুনের হালকা আলোয় কাজ করে। তিনি চুপচাপ সেলাই করেন, সূঁচ মোটা পশমের ভেতর ছোটে, প্রতিটি নড়া মায়ের কাছ থেকে শেখা কিছুর পুনরাবৃত্তি, উদ্দেশ্য ঝাপসা কিন্তু কাজ নিখুঁত।
উনুন থেকে দূরে রাত শহরের সরু গলির ওপর ভাঁজ হয়। বৃষ্টি চাদরে পড়ে, নালায় ছড়ায়, ভারি কোট পরা বাতি-জ্বালানো মানুষের পায়ে জমে যারা গলি ধরে নামে। পুরোনো বাণিজ্য টিকে থাকে, কিন্তু কেউ ওপরের দিকে তাকায় না। তারা প্রতিটি বাতি থেকে যে আলো বের করে তা ভেজায় হারিয়ে যায়, আর জানালার আড়ালের মুখ অন্য জিনিসে আলোকিত। এক পথভোলা বিড়াল নালা ধরে সরে, রাস্তার ধারে ফেলে রাখা কয়লার গাড়ির ছায়ায় চেপে বসে। গাড়ি একসময় দরকার ছিল। এখন অবশেষ, হাতের ছাপ আর লোহায় লেগে থাকা হালকা ধাতব ঝাঁঝে দাগী।
এগুলো তাদের চিহ্ন যারা যা সবসময় করা হত তা করতে থাকে, অর্থ ভাটা পড়লেও। আগ্নেয়গিরির পাথর, কড়াইয়ের ভার, বাতির কাচের গোলক, নীরবতায় সেলাই করা কোট। সব এমন রূপের অবশেষ যা আঁকড়ে ধরা হয় যখন কেন সরে গেছে। এটা শূন্যতা নয়, টিকে থাকা, নিজের জন্য ধরা এক রীতি।
আজ আপনি জানালার ধারে এক পাথর রাখতে পারেন, কথা ছাড়া এক গল্প মনে করে। পুরোনো ভারি কড়ায় সকালের খাবার রান্না করতে পারেন, বা বৃষ্টির নিচে বাইরে হাঁটতে পারেন যা জগৎ ভেজায় আর শান্ত করে। কিছু মেরামত করতে পারেন, প্রথম কে আপনাকে তা দিয়েছিল তা আর না জানলেও।
আজকের ভাগ্যের রং কালো।
Lucky Color: Black — #000000কারণ হারিয়ে গেলেও যা টিকে থাকে তাতে স্থিরতা আছে।
আসন শান্ত হলেও রীতি থাকে।