কার্ডের জগতে শিশুর ছোট পা ধুলোয় ভরা। যে পতাকা একসময় হাওয়ায় নাচত সে এখন লতপত, খরায় ভঙ্গুর, মাসের মেঘহীন আকাশে আঁশ ক্ষয়ে পাতলা। ঘোড়ার কেশরে গুঁড়ো, আর পথ ঝলকে হারায়, ছায়া আর স্বস্তি কেটে ফেলা। এখানে আলো নরম প্রলেপ নয়, এমন এক শক্তি যা ছিনিয়ে নেয়। সব পৃষ্ঠ, সব ধার করে তোলে। এমন জায়গা যেখানে শিকড় কষ্ট করে, আর বাতাস পাখির গানহীন।
পুরোনো এক দেশের দীর্ঘ, শুকনো রাস্তায় এক বাগানবাড়ির অবশেষ দাঁড়ায়। তার দেয়াল, শতক ধরে ভুলে যাওয়া, ঠান্ডার স্মৃতিতে নকশা-ধরা। ভুলে যাওয়া রুটির চুলা থেকে ময়দার গন্ধ, চ্যাপটা পাথরে পিষে যাওয়া গুঁড়ো। একসময় মসৃণ টেবিল এখন খোদা আর শুকনো, নিরলস সূর্যের নিচে ভাগ করা অনেক খাবারের ছাপ। আঙুরের লতা একসময় খুঁটি থেকে খুঁটিতে ছড়াত, কিন্তু এখন তাদের কাণ্ড ভঙ্গুর, পাতা ধুলোয় পড়ে। বারান্দা ধরে এক শণের চাদর, বহুদিন আগে হাতে বোনা, ভাজ হয়ে থাকে, কোণ বয়সে কুণ্ডলী আর হলুদ, কঠোর সূর্যের আলোর বছরের নীরব সাক্ষী। প্রতিটি সুতো এক গোপন কথা ধরে, ধীর ঋতুতে কাটা।
এক ব্যাপারীর ভাণ্ডারে পুরোনো হাতির দাঁতের বোতামের এক বাক্স খোলা পড়ে। তারা একসময় ভ্রমণের কোটের আটকানো ছিল, শিশু লম্বা হলে হাতে হাতে যাওয়া। কাছে এক চিনামাটির কাপ কিনারায় ফাটা, খালি পিরিচের কিনারায় টলমল, তার প্রলেপ ধীর, রোদেলা বিকেলে নিষ্প্রভ। এক থালায় ভুলে যাওয়া এক মুঠো বাদাম সংকুচিত আর ফ্যাকাশে। চুল্লির তাকের উপর এক শুকনো লাউ বসে, অতীতে সৌভাগ্যের জন্য ঝোলানো, এখন ফাটা আর বিবর্ণ, দরজার হাওয়ায় তার বীজ খড়খড় করে।
পথিকরা সমুদ্রের ধারে এই জায়গায় আসে, জলপাই গাছের ছায়ার আশায়। কিন্তু ডাল পাতলা। পায়ের তলার পাথর খড়িমাখা আর গরম। তারা আস্তে চলে, স্বস্তির এক টুকরো খুঁজে। তাদের উপরে আকাশ বিস্তীর্ণ, অখণ্ড। কখনো হাওয়া এলে ধুলো ওঠে, সবকিছুর উপর হালকা বসে। বয়ামের উপর, কপাটের উপর, ঘরে রাখা গ্রীষ্মের শেষ গমের উপর এক মিহি আস্তরণ। পায়ে পায়ে হাঁটা পুরোনো চটি পাতলা করে, তাদের তলা অন্তহীন পথে ঘষা। এমনকি রুটি, সেই সকালে সেঁকা, দ্রুত গুঁড়ো হয়, তার খোসা ভঙ্গুর, আর্দ্রতা দিনের গরম নিশ্বাসে চলে গেছে।
এমন আবহাওয়ায় মানুষ স্থিরতার মূল্য শেখে। জল কাপ করে মেপে দেওয়া হয়। ডিমের এক ঝুড়ি তাকে বসে, খোল গুঁড়োর আস্তরণে নিষ্প্রভ। কুকুর তাঁতের নিচে গুটিয়ে থাকে, নাক থাবায় গুঁজে, সন্ধ্যার অপেক্ষায়। মাঠে একমাত্র শব্দ শিশুপোকার নরম খটখট, তাদের গান যেন মনে করিয়ে বারবার বলে। এ এক পুরোনো গল্প, আর সূর্য সবসময়ই প্রাচুর্য আর ভার দুই-ই।
আজ আপনি এক শণের কাপড়ের ভাঁজ মসৃণ করে জানালার পাশে ঠান্ডা হতে দিতে পারেন, অথবা পারিবারিক রান্নার বই খুলে ভারী খোসার রুটি সেঁকতে পারেন। হারানো বোতামের কোট সেলাই করার ভালো দিন, অথবা বাদাম এক এক করে ছাড়িয়ে, শান্ত ধৈর্যে খাওয়ার।
আজকের ভাগ্যের রং পুরোনো সাদা।
Lucky Color: AntiqueWhite — #FAEBD7দিন ক্ষয়ে যাওয়া জিনিসের ধৈর্য ধরে রাখুক।
কঠোরতার মধ্যেও নরম কিছু থেকে যায়।