কার্ডে জেগে ওঠা মূর্তি দাঁড়িয়ে, তাদের ওপর যা ডাকছে তার দিকে হাত বাড়াচ্ছে। তবু এক আত্মা, কফিনের কিনারায় বসে, ওঠে না। তূর্যের সুর বাতাস ভরায়, কিন্তু কাজ পিছিয়ে রাখা, জবাব আরেক দিনের জন্য সরিয়ে রাখা। পৃথিবী তার চারপাশে অপেক্ষা করে, নড়ে না, এখনও না হওয়া ইচ্ছায় ভারী। নিচের মাটি না কবর, না খোলা পথ। সে এক থামা, স্মৃতিতে ঘন।
পুরনো রান্নাঘরের দেরাজে এক টুকরো আগ্নেয় কাচ পড়ে আছে, তার গা চকচকে আর ঠান্ডা। শতাব্দী আগে এমন এক ফলা শিরা বা ফল কেটে দিত, স্থির আর দ্রুত। এখন সে ছায়ায় তার খোপে অপেক্ষা করে, অব্যবহৃত কিন্তু তৈরি, বদলের ধারালো প্রতিশ্রুতি ঘুমিয়ে, যতক্ষণ না কেউ তাকে হাতে নেয়। দেরাজ খোলা হয় আর বন্ধ হয়, দিনের পর দিন, আগ্নেয় কাচ সবসময় থাকে, কিন্তু কখনও ডাকা হয় না।
অনেক উত্তরে মধ্যরাত এক সরু সমুদ্রখাড়ি ঢাকে। মেঘ জমে, তারা ঢাকার মতো ঘন, বাতাস চাপা, প্রত্যাশায়। জেলের নৌকা বাঁধা, খোল ঘাটের গায়ে আস্তে দোলে। তাদের জাল আর দড়ি পেঁচানো, অস্পর্শিত, এমন আবহাওয়ার নীরব সাক্ষ্য যা গ্রামকে ঘরের ভেতর রাখে। জেলেরা বাড়িতে থাকে, চুলার পাশে তিতো পানীয় চুমুক দেয়, অনিশ্চিত কাল জল নিরাপদ হবে কি না, আকাশ পরিষ্কার হবে কি না।
মাটির নিচে, এক শতাব্দী আগে খনির কারিগরদের কাটা এক সুড়ঙ্গে, কয়লার স্তর মাটি চিরে যায়। তাদের বাতি স্যাঁতসেঁতে দেয়ালে কাঁপে, কিন্তু গাঁইতি সরিয়ে রাখা, মুখের গায়ে হেলান। পালা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়লা, চাপা আর প্রাচীন, অক্ষত পড়ে, তার শক্তি ভেতরে আটকা। সুড়ঙ্গের অন্ধকার পুরো, ধৈর্যশীল, একদিন ফিরবে এমন পায়ের শব্দের অপেক্ষায়।
ওপরের ঘরে ভারী মখমলের শীতের কোট দরজার পাশে খুঁটিতে ঝোলে। মখমল নরম, এমন ভাঁজে ঝোলে যা আলো গিলে নেয়, আগুনের পাশে কাটানো সন্ধ্যার স্মৃতিতে ঘন। প্রতিটি কোট মালিকের হাত বাড়ানোর অপেক্ষায়, ঠান্ডায় পা বাড়ানোর অপেক্ষায়। আজ কোট জায়গায় থাকে, ঘর যাওয়া-আসায় নড়ে না, ভেতরের উষ্ণতা অক্ষত থাকে।
পেছনের ক্ষেতে মাটি চাষ করে তৈরি। বৃষ্টি আসেনি, আর কৃষক দোরগোড়ায় দাঁড়ায়, হাতে বীজের পুঁটলি। সে মাটির দিকে তাকায়, মুখ ফেরায়, বীজ জানালার পাশে রাখে। জমি ধৈর্যশীল, সেও তাই। ফসলের প্রতিশ্রুতি দেরি, কিন্তু ভোলা নয়।
এই সকালে কেউ আগ্নেয় কাচ দেরাজ থেকে এনে টেবিলে রাখতে পারে, মনে করিয়ে যে ইচ্ছে কাজে হতে পারে। ঘন আকাশের নিচে বাইরে এক হাঁটা অপেক্ষার অনুভূতি গভীর করতে পারে, অসমাপ্ত পরিকল্পনার শান্ত সঙ্গী। মখমলের কোট নামিয়ে কাঁধে জড়ানো যায়, কেউ ঘর না ছাড়লেও। অথবা বীজ এখনও জানালার পাশে, কেউ শুধু সেগুলো ধরতে পারে, তাদের ভার যেন ভবিষ্যতের এক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়।
আজকের ভাগ্যের রং কালো।
Lucky Color: Black — #000000কাজের আগের নিস্তব্ধতা নিজেই এক রকম জবাব।
প্রতিটি ডাক তাৎক্ষণিক উত্তর চায় না।