কার্ডে মূর্তি তাদের কফিন থেকে আধমনে ওঠে, অনিশ্চিত, যেন তূর্যের ডাক মোটা পাল্লা বন্ধ জানালা দিয়ে তাদের কাছে পৌঁছেছে। এক পা কিনারার ওপর দোলে, কিন্তু অন্য পা থমকে, ভারী। বাতাস প্রত্যাশায় আর নড়ে না। এমন এক ডাকের অনুভূতি যা জমে কিন্তু কখনও সিদ্ধান্তে ঢলে না। মাথার আকাশ ভোরের তীব্র ডাক নয়, আরও গভীর আর দীর্ঘ কিছু, তার ভাঁজে অমীমাংসিত ঘণ্টা ধরে।
এমন মুহূর্তে পৃথিবী সেই ঘণ্টার মতো, যখন প্রাচীন ভূমধ্যসাগরের তীরে নাবিকেরা অস্থির তলের ওপর তাকায়, এমন হাওয়ার অপেক্ষায় যা আসবে না। মাথার অন্ধকার সেই চাদর যা এক সন্ন্যাসী কাঁধে ফেলে, একা, সন্ধ্যা আর ভোরের প্রার্থনার মাঝে পাথরের উঠান পার হতে। পুরনো শহরে শেষ মোমবাতি সেই হলে নিভে যায় যেখানে পণ্ডিতেরা খাতার ওপর কুঁজো হয়ে অঙ্ক সকাল পর্যন্ত অসমাপ্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের দোয়াতের কালি এক ডোবা, গভীর বনের পুকুরের মতো স্থির, শুধু ছাদের কড়িকাঠ প্রতিফলিত করে। বাইরে রাস্তা মখমলের মতো কুয়াশায় ঢাকা, ঘন আর নিচু, এমন যা গোল পাথরের ফাঁকের শেওলায় ভেজে আর শেষ বাড়িফেরা পথিকের পায়ের শব্দ চাপা দেয়।
এমন আবহাওয়া পৃথিবীর কিনারায় জমে: মধ্যরাতের ঠিক আগের সময়, যখন আকাশ মেঘহীন কিন্তু তারা ফিকে, তাদের আলো প্রাচীন গল্পের ভারে ম্লান। কোথাও সমুদ্র অদেখা খাড়া পাথরে চেপে থাকে। জেলেরা জানে এই ঘণ্টায় জাল নৌকায় রাখাই ভালো, কারণ জল যত খোলে তার চেয়ে বেশি লুকায়। উত্তরের গ্রামে এক পুরনো গল্প আছে, যখন আকাশ মাসের পর মাস এই চাদর পরেছিল, আর শহরের মানুষ দিনের চলা সূর্যরশ্মির বিস্তারে নয়, চাল থেকে জলের ধীর ফোঁটায় চিহ্নিত করত।
গ্রামাঞ্চলে রাতের বাগান অদেখা জিনিসে জীবিত। কিছু লতানো ফুলের পাপড়ি বন্ধ হয়ে কাঁপে, অনুকূল ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের সুগন্ধ গুটিয়ে রাখে। দূরের মঠে ঘণ্টা বেজেছে, কিন্তু অধ্যক্ষের খাতা অস্পৃষ্ট থাকে। সিদ্ধান্ত তাকে তোলা, কাজ আধা শেষ। পথিকদের সরাইয়ের রান্নাঘরে পুরনো মিনেকরা বাঁটের হাঁড়ি চুলার পেছনে বসে, ভেতর সকাল পর্যন্ত ভিজতে রাখা, নীরবতায় স্বাদ গভীর হয়।
তবু এই পিছিয়ে রাখার ঘণ্টায়ও নিস্তব্ধতার দিকে ঝোঁকার নরম উপায় আছে। একজন মানুষ এক পাত্র চা ভিজিয়ে পাশে রাখতে পারে, কাপের উষ্ণতা টের পেয়ে ভাবনা পাক খেয়ে আবার খোলে। তারা অনেক পড়া এক বই খুলতে পারে, অর্থ না খুঁজে কথা তাদের ওপর বয়ে যাক, বিশ্রাম হাড়ে শিকড় গাড়ুক। বাইরে পা ফেলা সহজ, শান্তিতে দাঁড়ানো, পেঁচার দূরের ডাক বা হাওয়ার ধীর বাঁক শোনা। মনে করিয়ে যে প্রতিটি জবাব আজ রাতে আসতে হবে না। অথবা তারা দৈনন্দিন তালিকা এক কাগজচাপায় নিচে গুঁজে রাখতে পারে, আরেক ভোরের জন্য তাদের ধৈর্যের প্রতিজ্ঞা।
আজকের ভাগ্যের রং মধ্যরাতের নীল।
Lucky Color: MidnightBlue — #191970দ্বিধা এক শান্ত আশ্রয় হোক, আর কালকের ডাক এক নরম প্রতিশ্রুতি।