সংযমের দেবদূত তার পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু এই মুহূর্তে এক পেয়ালা কাত হয়, জল পাথরের ওপর ছলকে পড়ে। যেখানে সামঞ্জস্য থাকার কথা, সেখানে ভারসাম্যহীনতা গলে ঢোকে। প্রতি ফোঁটা তার ঠিক করা পথ ছেড়ে পালায়, যেখানে খুশি জমে। সাবধানে মেশানো ব্যর্থ হলে কিনারা আর সীমা দেখা যায়, ধারালো আর নিষ্ঠুর, অস্থির উপকূল থেকে ওঠা কালো আগ্নেয় পাথরের খাড়ার মতো। পেয়ালার ভিতর, যা নিখুঁত করে ঢালার কথা ছিল, এখন লাগামছাড়া বয়, মাটিতে গায়ে বসে, বা নদীর পাড়ের আগ্নেয় কাচের নুড়ির ওপর গড়ায়, প্রতিটা ঠান্ডা, কাচের মতো, নিঃশব্দ।
ছলকানোর পর যে স্থিরতা আসে, তাতে পরিণামের এক ভাব থেকে যায়। পুরনো গ্রামে কামারের নেহাই উনুনঘরের হৃদয়ে বসে, দাগওয়ালা আর টিকে থাকা। লোহা লোহায় আঘাত করে, আর প্রতিটা বিপথের বাড়ি উনুনের পাথরে ঝুলের ঝাপটা ছড়ায়। কামার মাজুফলের কালি-রাঙা ন্যাকড়ায় হাত মুছে, এমন গভীর রং যা ধোয়ায় নতি দেয় না। এগুলো বিপথে যাওয়া চেষ্টার দাগ, মাঝ থেকে একটু সরে যাওয়া জোরের দাগ, যেখানে একবার ধরা ভারসাম্য এখন এক মুহূর্তের জন্য হারানো। ন্যাকড়া এক কোটের পাশে ঝোলে, দীর্ঘ কাজের ছাইয়ে ভারী, আর বাতাস পোড়ার গন্ধ বয়ে আনে।
অন্যত্র, গ্রামে, কাক অনুর্বর ক্ষেতের মাথায় জমে, তাদের পালক কয়লার মতো পিছল আর আলো না-ফেরানো। তারা তীক্ষ্ণ চোখে দেখে কী উপেক্ষিত বা পড়ে আছে। না-বোনা বীজ, শস্য ঢালার মুখ থেকে ছলকে পড়া শস্য। পাখি ডাকে, তাদের স্বর স্বাগতও নয় অস্বাগতও নয়, প্রকৃতির নিরপেক্ষ বিচারের স্মারক। এক যাওয়া কৃষকের পকেটে চিন্তায় মসৃণ হওয়া এক টুকরো জেট পাথর এক বীজের ঠোঙার পাশে শোয়। পাথর শোষণের তাবিজ, এককালে বিশ্বাস ছিল ঝড় আর দুর্ভাগ্য ঠেকায়।
ঝড় নিজেই আসে মাঝরাতের বজ্রমেঘের রূপে, ছাদের ওপর সন্ধ্যার শেষ চিহ্ন গিলে। বাতাস ঘন হয়, জগৎ চুপ, বৃষ্টি শুরুর অপেক্ষায়। ছাদের নিচে এক ঢালাই-লোহার চাদানি চুলার ওপর বসে, সামনের সন্ধ্যার জন্য উষ্ণতা জমায়। পাত্র সাদামাটা, কাজে লাগে, আগুনে গড়া আর জলে ঠান্ডা করা, বাইরে বছরের ব্যবহারের দাগ। ভারসাম্য নড়লে, চাদানি বেশিক্ষণ পড়ে থাকলে, ভাপ এক হিসহিসে বেরোয়, আর চাদানি রাঁধুনিকে মনে করিয়ে দেয় ধৈর্য কত সহজে ফুটে উপচে পড়ে।
রান্নাঘরের দেরাজে এক যষ্টিমধুর শিকড় আলগা চাপাতা আর গোলমরিচের মাঝে পাক খায়। একসঙ্গে তেতো আর মিষ্টি, এমন স্বাদ যা থেকে যায়। যে হাত তার দিকে বাড়ে, সেই হাত এক রেশমি স্কার্ফও তুলতে পারে। উনুনঘরে ন্যাকড়ায় লেগে থাকা সেই রঙে রাঙা, অনিশ্চিত আবহাওয়ার যাত্রায় পরা। স্কার্ফ সন্ধ্যার হঠাৎ ঠান্ডা ঠেকায়, যখন আকাশ তার রং হারায় আর সামনের পথ শুধু জমাট ছায়া থেকে যা আলাদা হয়ে দাঁড়ায় তাতেই চিহ্নিত।
আজ একজন উনুন থেকে ঝুল পরিষ্কার করতে পারে, চাদানি এতটা ঘষতে পারে যে বাতির আলো ফেরে, বা ঘুমের আগে বিছানার পাশে এক টুকরো জেট পাথর রাখতে পারে। সন্ধ্যা নামলে এক স্কার্ফ পরা যায়, কাছে বেঁধে ছলকানোর পর যে নিস্তব্ধতা আসে তাতে পা দেওয়া যায়, জেনে জগৎ ঘুরতে থাকে আর জল তার পথ খুঁজে নেবে।
আজকের ভাগ্যের রং কালো।
Lucky Color: Black — #000000এই দিনটা চুপচাপ পার করুন।
ঝড়ের মাঝের বিরতিতে ভারসাম্য ফেরে।