এক জোড়া হাত, স্থির ধরা, প্রায়ই তাদের মাঝে এক পাত্র কাত করে। স্বাভাবিক গতিতে জল এক পেয়ালা থেকে অন্য পেয়ালায় যায়, নিরিবিলি আর নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু আজ ধারা লক্ষ্যে পৌঁছায় না। তরল কিনারা উপচে ছিটকায়, মাটি গাঢ় করে, রান্নাঘরের ইটে দাগ রাখে যেখানে এককালে উনুনের আগুন জ্বলত। এখানে ভারসাম্য টলে। সাবধানে মেশানো এক অধৈর্য নড়ায় বা কবজির কাঁপনে থেমে যায়, আর যা নরম মিলনের কথা ছিল তা হঠাৎ উপচে পড়া হয়ে যায়।
অনেক আগে রাজমিস্ত্রিরা নদীর পাড় থেকে মাটি গড়ত, খণ্ড সাজিয়ে উনুন আর দেয়াল বানাত। প্রতিটা টুকরো আগুন সহ্য করত, যতক্ষণ না হাওয়া আর বৃষ্টির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো শক্ত হয়। এই খণ্ড, তাপ বইবার জন্য তৈরি, সাধারণ জায়গা আর বাড়ির মাঝের গলি সাজাত। শতাব্দীর পর শতাব্দী এমন দেয়াল গল্প শুষে নিয়েছে। রুটিওয়ালার ভাটিতে ফোলা রুটি, কামারের অঙ্গার বুনো হয়ে ওঠা, গ্রীষ্মের রাতের হাসি আগুন নেভার অনেক পরেও থেকে যাওয়া। তারা সেই সময়ের স্মৃতি বয়ে আনে, যখন শহরের ভারসাম্য অনেক হাতের সহযোগ আর কাজ আর বিশ্রামের স্থির ছন্দের ওপর নির্ভর করত।
এক সকালে ভাটি বড্ড তাড়াতাড়ি খোলা হয়। ভিতরের বাতাস এখনও তাপে জীবন্ত, আর অসমান ঠান্ডায় ভিতরের টালি ফেটে যায়। আরেক দিন সমতলের ওপর দিয়ে ঝড় আসে, ছাদের ওপর বৃষ্টি ঢালে, ঢালাইঘরের সামনের শক্ত রাস্তায় ছিটকায়। এমন মুহূর্তে মানুষের নিয়ন্ত্রণের সীমা পরিষ্কার। জগৎ শৃঙ্খলা থেকে বিশৃঙ্খলায় সহজে কাত হয়। কাঁচা মাটি থেকে বাড়ির দেয়াল বা বাগানের কিনারা পর্যন্ত পথ মসৃণ হতে পারে, বা ছড়ানো হতে পারে, উপাদান কীভাবে জোড়া হয় তার ওপর।
কোনো কোনো বাজারে এক রুটিওয়ালা পুরনো উনুন থেকে এক রুটি বের করে। কিনারা মোটা আর অমসৃণ, পাথরের সরাসরি ছোঁয়ায় ছোপ ছোপ। ভাঙলে ঠান্ডা বাতাসে ভাপ ওঠে, শীতের হৃদয় ভরা খাবারের গন্ধ বয়ে আনে। রান্নাঘরের উষ্ণতায় পেছনের চুল্লিতে এক হাঁড়ি টগবগ করে, সাবধানে দেখা হয় যেন ফুটে উপচে টালিতে ছড়িয়ে না পড়ে। নিরিবিলি জায়গাতেও ভারসাম্যহীনতা হঠাৎ। এক পড়া মগ ইটের মেঝেতে ভেঙে যায়, এককালে মাটি গড়ে আগুনে পোড়ানো সব হাতের স্মৃতি।
সন্ধ্যায় উনুন ঝেড়ে পরিষ্কার করার এক রীতি আছে, চুলার কাছে জ্বালানি সাজানোর, ব্যবহারে ঝলসানো শক্ত তলে ভেজা কাপড় বোলানোর। উনুনের দরজা খোলার আগে থামা যায়, ঠান্ডা হওয়ার শব্দ শোনা যায়, বা রুটি পাত্র থেকে ওলটানোর আগে আর একটু অপেক্ষা করা যায়। বাগানে পথের দাগ দিতে এক সারি ইট বসানো, বা ফাটা একটা নতুন মশলায় সারানো, ভারসাম্যের এক মাপ ফেরাতে পারে। ছলকানোর পর জল থিতোনোর সময় দিন, আর যে দাগ তা রেখে যায় তার যত্ন নিন।
আজকের ভাগ্যের রং ইটের রং।
Lucky Color: FireBrick — #B22222উষ্ণতা স্থির হোক, সীমা শক্ত হোক।
নরম হাত সেই জিনিস চালাতে পারে যা ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে না।