দুই জন্তুতে টানা এক রথ মোড়ে টলে, প্রত্যেকে নিজের দিকে টানে। চাকা মাটির গভীরে পিষে, সামনে নয় জায়গাতেই, যেন খাঁজ নিজেই যাত্রা হয়ে উঠেছে। চালকের হাত চামড়ার ফিতে আঁকড়ে, বছরের ঘামে ফাটা আর নরম, তবু লাগাম কোনো আদেশ দেয় না। জন্তুরা বাতাস শোঁকে আর কাদা আঁচড়ায়, কথা শোনে না, নাসিকায় শুকনো শস্য আর নদীর ধুলোর ছিটে। নিচের জমি এমন খেত যা অনেক পা দেখেছে, চ্যাপ্টা, সমৃদ্ধ, আর মথা, একই মাটি যা একসময় গম আর মূল সবজি দিত, এখন পদদলিত আর অনিশ্চিত।
অন্য জায়গায় প্রাচীন গল্প সেই লাঙলধারীর কথা বলে, যে নিজের ফালিতেই হারিয়েছিল, ভারী দোআঁশের রঙের আকাশের নিচে খেত ঘুরে। তার বুট গত বছরের ফসল আর এই সকালের বৃষ্টিতে মাখা, তাকে নতুন কোথাও নিয়ে যায়নি। সে গোয়ালে গরুর ডাক শুনত, খুঁটির বিরুদ্ধে ঘোড়ার অস্থিরতা, আর দূরে উনুনের ফাটানি যেখানে আলু গরম ছাইয়ে ঘুরত। চারপাশে যাওয়ার চিহ্ন। দরজার ধারে ঝোলানো চাষির টুপি, শীতের কাজে শক্ত। কাঠের চেয়ারের পাশে রেখে যাওয়া মগ, দশকের সকালের কফিতে দাগী। বেড়ায় ছুড়ে দেওয়া কোট, স্যাঁতসেঁতে আর ধোঁয়ার গন্ধে ভারী।
রাস্তা নিজেই, বন আর চারণভূমির ভেতর বাঁকা, ছাল ছাড়ানো কাটা কাঠের স্তূপে ঘেরা, ঠান্ডা বাতাসে শুকোচ্ছে। গাড়ি পেরোলে ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে, প্রতিটি ফসলের ভার বয়ে, শিমের বস্তা, মধুর বয়াম, পুরোনো গাছের শিকড়ের কাছে তোলা মাশরুমের ঝুড়ি। এ উদ্দেশ্যহীন চলার ধরন। মাটিতে গড়া খাঁজ, ঘাসে চাপা বুট, আগুনে কালো হওয়া রুটির টুকরো ভাগ করা বা গুঁড়িতে বসা পথিকদের মাঝে বদল হওয়া গল্প। তারা চওড়া উপত্যকা পেরোনো বণিকদের কথা বলে, তাদের যাত্রা চাষ করা খেতের গন্ধ আর মাটিতে বৃষ্টির শব্দে চিহ্নিত।
ঘরের ভেতরে রান্নাঘরের টেবিলে রাতের খাবারের অবশিষ্ট ছড়ানো। খসখসে খোসার এক টুকরো রুটি। বছরের হাতে কালো হওয়া হাতলের এক ছুরি। আখরোট কাঠের খোদাই এক বাটি, মরসুমের শেষ বাদামে ভরা। ওপারের বাগানে মূল সবজির সারি মাটির ঢিবির নিচে অপেক্ষা করে, ওপরের পৃথিবী ঘুরলেও ধৈর্যের। এক কোদাল চালার গায়ে হেলান, ফলা নুড়ি আর সময়ে ভোঁতা, কালকের খোঁড়ার বা আজকের উদ্দেশ্যহীন ঘাস তোলার জন্য প্রস্তুত। পৃথিবী চক্রে ঘোরে, বীজ থেকে ফসল, ভোর থেকে সন্ধ্যা, প্রশ্ন থেকে প্রশ্ন, আর রথের চাকা ঘোরে, কিন্তু সামনে নয়।
দিন পাশ দিয়ে পিছলে যাচ্ছে টের পেলে, বাইরে পা দিয়ে হাঁটুন যতক্ষণ বৃষ্টির পর মাটির গন্ধ না পান। পুরোনো এক জোড়া বুট বাঁধুন, একই পথ আবার হেঁটে, লক্ষ করুন তারা প্রতিটি পা কীভাবে ভারী আর ইচ্ছে করে করে। কয়লায় কয়েকটি মূল সবজি সেঁকুন, তাদের মিষ্টতা গভীর হোক, খুললে বাষ্প উঠতে দেখুন। এক গুঁড়িতে বা কাঠের টেবিলে বসুন, কড়া কফির মগে দাঁড়িয়ে। এ পথ স্থিরতাকে স্থিরতায় গভীর করতে, নিজের ওপর ঘুরে আসা যাত্রার ভেতরে বিশ্রাম খুঁজতে।
আজকের ভাগ্যের রং বাদামি।
Lucky Color: Brown — #A52A2Aখেত প্রতিটি পায়ের দাগ মনে রাখে।
রাস্তা না ধরলেও শেকড় শক্ত ধরে।