অনিশ্চিত এক রথে জোতা এক জোড়া না-পোষা জন্তু উলটো দিকে টানে। চালক লাগাম ধরেন, কিন্তু চাকা পিষে, সামনে নয়, পেছনে নয়, শুধু জায়গাতেই ঘোরে। নিচের রাস্তা পুরোনো পাথরের স্তরে, অনেক আগে হাত গড়া আর বসানো, পায়ে খসখসে, শতাব্দীর বৃষ্টি আর গাড়ির চাকায় গর্ত। এ চকচকে কুচকাওয়াজের মাঠ নয়, দুর্গের পেছনের গলি, যেখানে কিছু আঁকা বা পালিশ করা নয়, কাজ শুধু টানা আর চলা, চলার খাতিরে।
চালকের মাথার ওপর স্লেটের এক ছাদ। প্রতিটি চিলতে হাতে ভারী, ঠান্ডা উঁচু খনিতে মাটি থেকে তোলা পাথরের স্তর থেকে কাটা, যত্নের খাটুনিতে স্তূপ আর পেরেকে আটকানো। ঝড়ের পর ঝড়, শিলাবৃষ্টি আর কামড়ানো হাওয়া, ছাদ টিকে। মূল চালের পতাকা পচে যাওয়ার অনেক পরেও এই টালি থেকে যায়, স্থির আর আড়ম্বরহীন। তাদের পৃষ্ঠে জল ফোঁটা বাঁধে, তারপর গড়িয়ে যায়, নর্দমার ফাটা লোহার নল খুঁজে। শব্দ স্থির, ধীর সমান ঢোল, শরতের হাওয়ায় আরও জোরে। নিচের ঘর উষ্ণ কিন্তু ম্লান, ঘর কাছাকাছি আর কাজের, মেঝে ঝাড়া কিন্তু কখনো চকচক করা নয়।
শহরের ওপারের উপত্যকায় সকালের কুয়াশা নদী থেকে ভাসে, ঘন আর ধৈর্যের। ভেড়া বাইরে, পশম জট, ঘাস শিশিরে চ্যাপ্টা। খামারের হাত পাথুরে পথ হাঁটে, বুট কাদায় পিছল। তারা চেরা স্লেটের আঁটি বয়ে নিয়ে যায়, নিজের ভারে হেলে পড়া দেয়াল মেরামত করতে, টুকরোর পর টুকরো জোড়া, সৌন্দর্যের জন্য নয়, শুধু জোরের জন্য। খনি এখন নীরব, কিন্তু টুকরো থেকে যায়, ভাঙা চাঙড়, ধারালো, স্তূপে, ব্যবহারের বা আবহাওয়ায় কিছু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায়।
জানলার ধারের কাজের টেবিলে এক পাথরের কালিদানি দাঁড়ায়। তার পাশে খসখসে রং করা পশমের মলাটের এক খাতা, মেরুদণ্ড ফাটা, কোণ ঝুলে। কলম ইস্পাতের, কালি ধীর ফোঁটা, প্রতিটি লাইন ছোট লেনদেনের হিসাব, বিক্রি হওয়া দুধ, মেরামত হওয়া হাতিয়ার, পরের অনিশ্চিত যাত্রার জন্য ভাড়া করা গাড়ি। খাতার পাতা দাগী, অযত্নে নয়, অবিরাম হাত বোলানোয়, প্রতিটি হাটের দিনে বুড়ো আঙুলে।
বাইরে মেঘ নিচু আর জেদি বসে। ভোর থেকে বৃষ্টি পড়ছে, স্থির এক পর্দা, উঠোনে পুকুর বানায়, গির্জার স্লেট চূড়ায় চাদরের মতো নামে, জানলায় ঠান্ডা ভেজা ছোপ কাটে। শিশুরা কাচে হাত চেপে, জলের আস্তরণে পথ আঁকে, কাল্পনিক মানচিত্র, রাস্তা কখনো শুকোলে যেখানে যেতে পারে। হাওয়া উঁচু মুরের ঠান্ডা বয়ে, শেওলা আর পাথরের গুঁড়োর গন্ধ।
এই দিনে পা দিতে, কেউ চুলোয় কেটলি বসিয়ে বাগানের চালার পুরোনো এক স্লেট তালি দিতে শুরু করতে পারে, বা শক্ত আঁশের ঝাড়ু দিয়ে দোরগোড়া থেকে জল ঝাড়তে পারে। যত্নের হরফে এক চিঠি লেখা যায়, শেষ করে সিল, তারপর গুঁড়ি বৃষ্টির ভেতর ডাকবাক্সে নিয়ে যাওয়া। যা টিকে তা মেরামতে শান্ত সংকল্প আছে, রাস্তা অনিশ্চিত হলেও বাইরে হাঁটায়, আর আড়ম্বর ছাড়া ছোট কাজের যত্নে।
আজকের ভাগ্যের রং পাথরের ধূসর।
Lucky Color: SlateGray — #708090দিন অবিরামতায় চিহ্নিত হোক, আর পাথরের ছোঁয়ায়।