সারথি শক্ত আর হাসিহীন, লাগাম আঁকড়ে ধরেন, জীব দুটি উলটো দিকে টানে। একজন মাটি আঁচড়ায়, নাসিকা দূর হাটের দিকে ফোলা, অন্যজন অধৈর্যে নাক ডাকে, চোখ পাহাড়ে স্থির। তারা আলাদা টানলেই রথ হেলে পড়ে, চাকা খাঁজকাটা পথে কামড়ায়। এই মুহূর্তে অগ্রগতি পৌঁছানোর ব্যাপার নয়, এক উদ্দেশ্য বা অন্যটির টান আটকানোর ব্যাপার। যাত্রা নিজেই একমাত্র স্থির, অমিলের চালানো এক গতি।
বাণিজ্যশহরের মোড়ে এক বণিকের দোকান রোদ আর লণ্ঠনের নিচে জ্বলে। বোনা ঝুড়ি থেকে আগুনের রঙের মরিচের স্তূপ ছড়ায়, ছাল কুঁচকানো আর চকচকে, কোনোটার চেরা ভেতরে বীজ ছোট মুদ্রার মতো ছড়ানো। বাতাস তাদের গন্ধে ঝাঁঝালো, মিষ্টতা আর জিভ জ্বালানো কামড় দুইয়ের প্রতিজ্ঞা। এক ছেলে থামে, দ্বিধা করে, তারপর একটা তুলে চিবোতে চিবোতে ভিড়ের ভেতর বুনে যায়, তাপ তার পা চালায়। কাছে বিক্রেতারা কমলার ঝুড়ি স্তূপ করে, খোসা সর্পিল করে অর্ধেক ছাড়ানো। শ্রমিকরা পেরোয়, হাতে এক কোয়া নেয়, রস তাদের মুখ উজ্জ্বল করে যখন তারা পরের কাজে পা বাড়ায়, পথ পরিকল্পনায় নয়, না-বলা দরকারে ঠিক।
শহরের বাইরে, যে তৃণভূমিতে প্রতিটি পায়ে ধুলো ওঠে, এক কাফেলা প্রাচীন রেশমপথ ধরে যায়। ভোর ভাঙলে পূর্বের আকাশ জ্বলে ওঠে, চলার জ্বরে দেশের ওপর ঢেলে। ঘোড়া মাথা নাড়ে, উট ঘড়ঘড় করে, কেউ সামনে ঠেলতে আগ্রহী, অন্যরা পিছিয়ে, বুনো ভেষজের গন্ধে অন্যমনস্ক। যাযাবররা যাত্রায় ক্ষয়ে যাওয়া চাদরে জড়ানো, গত রাতের আঙার থেকে এখনো গরম সেঁকা মেটে আলুর পাতলা টুকরো ভাগ করে। স্বাদ মাটির আর মিষ্টি, হাতের তালুতে চাপা ঘরের স্মৃতি। এখানে অগ্রগতি এক দরকষাকষি, প্রতিটি পা এমন শক্তিতে গড়া যা কখনো ঠিক মেল না।
হাওয়ায় ক্ষতবিক্ষত এক পাহাড়ি গাঁয়ে শিশুরা ছাদে উঠে পুরোনো উৎসবের পতাকা থেকে বানানো ঘুড়ি ওড়ায়। তারা আলাদা দিকে দৌড়ালে মাটির টালিতে পা পিছলায়, তাড়ায় সুতো আড়াআড়ি হয়ে জট পাকায়। ঘুড়ি মাথার ওপর লাফিয়ে কেঁপে, কখনো সারিতে নয়, কখনো বিশ্রামে নয়, এক ডজন দমকার মাঝে আটকে। নিচের রান্নাঘরে হাত মাটির চাদানির দিকে বাড়ে, হাতল বছরের ব্যবহারে মসৃণ আর দাগী। কেউ প্রথম কাপ ঢালে, বাষ্প উঠে ঘুরুক, মনে করিয়ে দেয় উষ্ণতা প্রায়ই উনুন থেকে নয়, ভাগ করার কাজ থেকে আসে।
আপনি চুলোর ওপর এক মরিচ সেঁকতে পারেন, ছাল ফোস্কা না হওয়া পর্যন্ত, তারপর স্বাদের এক ঝাঁক হিসেবে দুপুরের খাবারে গুঁজে দিতে পারেন। এক কমলা ছাড়িয়ে ধীরে খান, রস থেকে যাক, জানলার বাইরে পৃথিবী পেরোতে দেখে। উৎসবের পতাকার মতো এক উড়নি গলায় জড়িয়ে বাইরে পা দিন, হাওয়ায় ঝাপটা লাগুক। নিরাপদ জায়গায় ছোট এক আগুন জ্বালান, হয়তো এক মোমবাতি বা এক দেশলাই, তার শিখার নাচ দেখুন, মনে রেখে প্রতিটি যাত্রা নিশ্চয়তায় নয়, চলায় শুরু হয়।
আজকের ভাগ্যের রং কমলা লাল।
Lucky Color: OrangeRed — #FF4500পথ আলাদা হলেও, চলা নিজেই নিজের পুরস্কার হয়ে ওঠে।