শাসকহীন সিংহাসন শুধু এক চেয়ার, উঁচু পিঠ, ভয় দেখানো, কিন্তু ভেতর ফাঁপা। পতাকা তার ওপর ঝোলে, স্থির আর নীরব, সুতো তত আঁট যতটা আইন একসময় এই খালি জায়গা থেকে বেজে উঠত। যেখানে আদেশের গলা প্রতিধ্বনি তুলত, সেখানে এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা থেকে যায়, ধুলোয় চুপচাপ নিজেকে আওড়ায়। রাজদণ্ড হাতলে হেলান দিয়ে, ঠান্ডা, সাজের, অনুষ্ঠানের লোহায় ভারি। সব কর্তৃত্ব চোখের আড়ালে সরে গেছে, যা থাকে তা শৃঙ্খলার কড়া কাঠামো। নিজের জন্যই রীতি, পথনির্দেশ ছাড়া ইশারা।
প্রাসাদ থেকে দূরে, সন্ধ্যার ক্ষেতে, সুমাকের শেষ থোকা পাতাহীন ডালে লেগে থাকে, প্রথম কড়া তুষারের পর খোসা কুঁচকানো আর গাঢ়। এই বেরি একসময় শরতের শেষ টেবিল উজ্জ্বল করত, এখন শুধু ইশারা দেয় এক মৌসুম বন্ধ হওয়ার ক্লান্তিহীন পিষন। হাটে হরিণের মাংসের চাদর আঁকশিতে ঝোলে, প্রতিটি টুকরো লোনা করে রাখা, কিনারায় মাংস কালো হয়ে আসে। কোনো ভোজ তৈরি হয় না, কোনো গল্প বলা হয় না। প্রক্রিয়া চলে কারণ সবসময় চলেছে, কেউ খাওয়ার অপেক্ষায় আছে বলে নয়। কসাইয়ের ছুরি বরাবরের তালে কাঠের গুঁড়িতে পড়ে, যেন এক পুরোনো শপথ রাখছে যা আর কেউ পড়ে না।
দূর সমতলে এক কাফেলা ধীরে চলে, ঝড়ে ফোলা আকাশের নিচে। হাওয়া লোহা-সমৃদ্ধ মাটির ধাতব ঝাঁঝ বয়ে আনে। আগের বছরগুলোতে সেনাপতিরা এখানে সৈন্য জড়ো করতেন, পতাকা উড়ত, এক কথায় সিদ্ধান্ত হত। এখন মাঠ শান্ত, শুধু গাড়ির চাকার ঠকঠক আর বলদের ধৈর্যশীল পা। মাটি নিজেই, ভারি আর চেপে বসা, জুতো আর ক্ষুরের চাপ মনে রেখেছে বলে মনে হয়, যদিও সার বেঁধে চলার নেতৃত্ব কেউ দেয় না। বৃষ্টি শক্ত চাদরে পড়ে, ডোবায় পিটিয়ে জমিকে গভীর আর গাঢ় রাঙায়, তত নিরলস যতটা হৃদয়হীন আইন।
ভেতরে উনুন ঠান্ডা। চুল্লির তাকে খালি পানপাত্র, একসময় জয় আর ফেরার পানীয় তোলা হত, কাচ এত মোটা যেন মদের চেয়ে শক্ত কিছু ধরতে হবে। কাপড়ের রুমাল ভাঁজ করা আর অচ্ছুত, প্রতিটি কোনা ধারালো চেপে রাখা। পরিবারের খতিয়ান টেবিলে খোলা, সার সার হিসাব কষা, দেনা যত্নশীল হাতে লেখা। আজ রাতে কেউ তার পাতা জোরে পড়ে না। মোমবাতি নিচে নেমে জ্বলে, ধোঁয়া ওপরে কুণ্ডলী পাকায়, উৎসব ছাড়া সময় চিহ্নিত করে।
যা থাকে তা নিয়ে উষ্ণতা দিতে চাইলে রান্নাঘরে যান আর ভারি হাঁড়িতে বুনো বেরি সেদ্ধ করুন, তাদের ঘন গন্ধ বাতাস ভরাক। স্থির হাতে ঘরের হাতিয়ার ধার দিন, প্রস্তুত রাখুন যাতে আবার দরকার হলে শুধু পুনরাবৃত্তির বেশি কাজে লাগে। জুতোর তলায় শক্ত চামড়া বসান, তারপর বৃষ্টির পর বাইরে পা দিন, নরম মাটিতে নিজের দাগ রাখুন। বাতির আলোয় দূরের কাউকে চিঠি লিখুন, আর বলুন আসন খালি ছিল না সেই দিনগুলোর কী মনে আছে।
আজকের ভাগ্যের রং ঘন লাল।
Lucky Color: DarkRed — #8B0000শান্তের মধ্যে দৃঢ়তা টিকে থাকে।
চাইলে কাঠামো জিনিসে বদলাতে পারে।