সম্রাজ্ঞীর উলটো বাগানে একসময় গোছানো ওষুধি গাছ আর গমের সারি এখন বুনো, ঢুকে পড়া জটের কাছে নতি মানে। কিছু ছাঁটা হয় না, কিছু তোলা হয় না। মাচা অতিরিক্ত পাকা লাউয়ের ভারে ঝুলে পড়ে, তাদের লতা ফাঁকের ভিতর দিয়ে গিঁট বাঁধে। ফলের বাগানের ফল অদেখা পড়ে, নরম মাটিতে থেতলে যায়। পুরনো শস্যের ডোল বেড়ার ধারে বোবা বসে, যেখানে তক্তা সরে গিয়ে ফাঁক হয়েছে, কাঠামো হাঁ করে। বিকেলের নিস্তব্ধতায় নীরবতা ঘন। শুধু কড়িকাঠ থেকে ঝোলানো দোলনার ম্লান চড়চড় ভাঙে। আসন মোটামুটি চাছা, বছরের বৃষ্টি আর অলস হাতে কালো।
এক সময় এমন কড়ি, বনের হৃদয়ের গাছ থেকে কাটা, গোলাঘর আর ঘর দুইয়ের কঙ্কাল গড়ত। দক্ষ ছুতোর তাদের ঘনত্ব আর টিকে থাকার দাম দিতেন। বাটালি দিয়ে প্রতিটি দৈর্ঘ্য এতক্ষণ কাজ করতেন, যতক্ষণ না তল শ্রমের চিহ্নে চকচক করে। ঠান্ডা মাসে পরিবারেরা এই একই কাণ্ড থেকে গড়া টেবিলের চারপাশে জড়ো হতেন। থালার চাপ আর আপেলের রস ছিটকে তল খাঁজ-খাঁজ। কাঠ, কাটা আর পাকানো, গ্রীষ্মের ঝড় আর শীতের নিস্তব্ধতার স্মৃতি ধরে রাখত। গিঁঠ আর দাগ সহ্য করা ঝড় আর দেওয়া আশ্রয়ের কথা বলত। এখন কড়িকাঠ ঝুলে, দরজা অসমান ঝোলে। ঋতু ঘোরার সঙ্গে যত্নের কাজ অযত্ন।
পাহাড়ি শহরে হাতে হাতে আসা গল্প সেই সময়ের কথা বলে, যখন প্রথম ঘর উঠত। কাদা রাস্তা দিয়ে বলদে টানা কাঠের পাটাতনে টেনে আনা শক্ত গুঁড়ি দিয়ে বানানো। এমন কাঠ, তার জোরের জন্য বাছা, পরিবারকে কামড়ানো হাওয়া আর নেমে আসা মেঘ থেকে আগলে রাখত। শুকনো সময়ে রান্নাঘরের লম্বা আসন কাজের টেবিল আর পূজার জায়গা দুই হয়ে উঠত। ময়দার বস্তা আর দৈনন্দিন রুটির ভার বইত, ছুরি আর বাটালিতে তল ঘষা। শুকনো বছরে সেই কাঠের পিপা শিম, ডাল, আর আশা জমা রাখত। কিন্তু সম্রাজ্ঞীর দান অবহেলা হলে এই পাত্র খালি দাঁড়ায়। বাতাস ভারী আর স্যাঁতসেঁতে হলে শক্ত বেড় আলগা হয়ে সরে।
বাইরে আবহাওয়া বদলায়। শুকনো হাওয়া পরিত্যক্ত চালার ভিতর দিয়ে যায়, মেঝেয় ছড়ানো কাঠের কুচি খসখাস করে। কাজের টেবিল, বছরে কোণ গোল, শান্ত। রূপ বদলের হাতিয়ার, কাঠের হাতুড়ি আর গোঁজ, শেষ যেখানে নামানো হয়েছিল সেখানে বিশ্রাম নেয়। পুরনো রুটির তক্তা দেয়ালে হেলান। শত শত শান্ত সন্ধ্যার দাগ তার তলে, মাখা হাতের চাপের অপেক্ষায়। স্থিরতায় ঘরের হাড়, দরজার চৌকাঠ, চেয়ার, কুয়োর বালতির কিনারা, সব নবায়নের অপেক্ষায়। তাদের গল্প থেমে।
ছোট ইশারা আছে, যা মরশুম ঘোরাতে শুরু করতে পারে। আপনি কাঠের কুচি জড়ো করে উনুনের নিচে জ্বালানি হিসেবে রাখতে পারেন, ঘরে উষ্ণতা ফিরিয়ে ফুসলিয়ে। আরেকজন শস্যের ডোলের চারপাশে লোহার বেড় শক্ত করতে পারেন, এখনো আসা প্রাচুর্যের জন্য তৈরি করে। খালি পিপা মুছে দরজার কাছে সোজা করে রাখা যায়, ফসলের প্রস্তুতির চিহ্ন। পুরনো রুটির তক্তা ধরে হাত বোলানো, খসখসে জায়গা বালি দিয়ে মসৃণ করা, ভাগ করা রুটির স্বাদ মনে করিয়ে দেয়। আর এই প্রতিশ্রুতি যে টেবিল কখনো সত্যি পরিত্যক্ত নয়।
আজকের ভাগ্যের রং কাঠের বাদামি।
Lucky Color: BurlyWood — #DEB887এক স্থির হাত অবহেলা যা নরম করেছে তা ফেরায়।