ক্ষেতের কিনারার ফলের বাগান একসময় সম্রাজ্ঞীর মতো দাঁড়িয়ে আছে, হাত মেলা, কিন্তু এখন তাঁর পোশাক গত বছরের ডাঁটায় ছেঁড়া। একসময় আপেল ডাল নুইয়ে দিত, মাটি পড়া ফলের নরম নিস্তব্ধতায় ছড়ানো থাকত। এখন তাদের জায়গায় বেত আর জট পাকানো আগাছার বেড়া ওঠে। কাঁটাফুল শ্যাওলা ফুটো করে, বুনো কোণ দাবি করে যেখানে হাত দেখাশোনা ছেড়ে দিয়েছে। বাগানের বেড়া ঝুলে পড়ে। শরতের শেষের হাওয়া তাকে ঠেলে দেয়, একসময় শক্ত পাটাতন ধরে শিস দেয়, এখন কিছু ভিতরে বা বাইরে রাখতে উদাসীন। ফসল কখনো তোলা হয়নি। যা এক ঘরকে খাওয়াতে পারত সেই বীজ মাটিতে নিজেদের খরচ করেছে, অদেখা।
পুরনো গরুর গাড়ির রাস্তা ধরে এক সাদামাটা আগাছার শক্ত ডাঁটা প্রহরীর মতো গুচ্ছ হয়। তাদের ঝালর একসময় পথিকের কোটের কিনারা ঘষত, ভারী জুতোয় লেগে থাকা ধুলো রেখে। এই দণ্ড, রাখালের বাঁকা লাঠির মতো শক্ত, বৃষ্টি আর খরা পেরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মুকুট একসময় ছোট মশালে মুড়ত, ঘুরে বেড়ানো মৌমাছির ইশারা। এখন মরশুমের অবহেলার ভারে ঝুলে। অতীতে বৈদ্য আর সংগ্রাহকেরা তাদের খুঁজতেন। ব্যথা আর জ্বরের জন্য তাদের রস আর চা আনা হত। তাদের থাকা এক সহজ দান। আজ তাদের ডাঁটা হাওয়ায় শুকায়, একে অপরের সঙ্গে ঝনঝন করে। সারা শীত বাইরে ফেলে রাখা ঝাড়ুর গলায়।
ফলের বাগানের পেছনের কুটির ঠান্ডা। উনুন ঝাঁট দেওয়া, ঝুড়ি খালি। দরজার ধারে এক কোট ঝোলে, ধুলো-ধরা গম আর পুরনো ভুট্টার গুঁড়োর রং। একসময় এক নারী শিশির-ভেজা ঘাসের ভিতর দিয়ে হেঁটে ভোরে শিকড় তুলতে এটা পরতেন। বছরের ব্যবহারে দাগানো খসখসে বুনন অসমাপ্ত কাজের ইশারা। ভাঁড়ারে মধুর বোয়াম ভুলে যাওয়া দাঁড়িয়ে আছে। ঢাকনা শক্ত সিল, কিন্তু ভিতর ধীরে কেলাস হয়। কলের বস্তায় আস্তর দেওয়া ভাঁড়ারে শুধু টুকরো। এই মাসগুলোতে ক্ষেত থেকে কিছু আসে না, শেষ আলু ফাটা বাটিতে বসে।
ক্ষেতের অনেক ওপারে, বিস্তীর্ণ সমভূমিতে, বসতি স্থাপনকারীরা একসময় রাস্তার আগাছার খাড়া আঁশে গ্রীষ্মের শেষ দাগাতেন। ঘোড়া তাদের ঘন থোকা থেকে সরে যেত। কাজ থেকে ঘরে ফেরা শিশুরা তাদের সোজা ডাঁটা তুলে তাৎক্ষণিক তির বা বাগানের চিহ্ন বানাত। কখনো মালায় বুনে দরজার উপরে ঝোলাত, পরের ফসলে ভালো ভাগ্যের আবেদন। বুনোতে, যেখানে ঝড় দিগন্তে জমে, এই গাছ নুয়ে কিন্তু ভাঙে না। তাদের টিকে থাকা, লক্ষ না হলেও, অবহেলার প্রজন্ম পেরিয়ে তাদের শিকড় ধরে রেখেছে।
এখন পশ্চিম থেকে হাওয়া জোরে এলে একসঙ্গে মাটির আর ফিকে ওষুধের গন্ধ বয়ে আনে। পুরনো ক্ষেতের নিঃশ্বাস। বাতাস ঘন আর শান্ত, যা তোলা হয়নি তার জ্ঞানে ভারী। আশ্রয়, একসময় আশীর্বাদ, কাছে আর ঠান্ডা লাগে। তবু এক হাত বেড়ার কাছে যা এখনো সোজা দাঁড়িয়ে আছে তার দিকে বাড়তে পারে। উনুন ঝাঁট দেওয়ার এক দণ্ড, শেষ ঝোল নাড়ানোর এক ডাঁটা, চায়ের কেতলির এক ডাল। এ সহজ কাজ। দরজার ধাপ ঝাঁট দেওয়া, যা থাকে তা দিয়ে একটু চা ফোটানো, কোটের খসখসে হাতা মেরামত করা, অথবা উনুনের তাকে শুকনো ডাঁটার এক আঁটি রাখা। ইশারা যে সব হারায়নি।
আজকের ভাগ্যের রং গাঢ় সোনালি হলুদ।
Lucky Color: DarkGoldenRod — #B8860Bক্ষেতে যা দাঁড়িয়ে আছে, আপনার হাত তা তুলুক। অবহেলার মধ্যেও কিছু টিকে থাকে।