গম ক্ষেতে নুয়ে আছে, প্রতিশ্রুতিতে ভারী। মাথা পূর্ণ, সমভূমির ওপর হাওয়া বয়ে গেলে ঝিকিমিকি করে। গোলাপ নিচু দেয়াল বেয়ে ওঠে, সকালের নিস্তব্ধতায় পাপড়ি খোলে। রান্নাঘরের বাগান নীরব প্রাচুর্যে ফল দেয়। মোটা টমেটো আর বেগুন, শক্ত শিম, আর শসার কুণ্ডলী লতা। সম্রাজ্ঞী এই দানের মধ্যে বসেন। তাঁর আসন জীবন্ত ডাল দিয়ে গড়া, ঋতুর ধৈর্যে বোনা। কাছে জল পাথর থেকে পাথরে গড়ায়, ঠান্ডা এক কুণ্ডে জমে, তারপর তাঁর শাসনের সবকিছুর শিকড় খাওয়ায়। তিনি শূন্যতায় নয়, বৃদ্ধি আর শ্রম নরম ফলে আসার প্রমাণে ঘেরা।
বাগানের কিনারায় এক ছোট গাছ দাঁড়িয়ে আছে। সরু পাতা সূর্যের আলোয় কাঁপে, এক পাশ রুপালি, অন্য পাশ ম্লান। তার ফল মসৃণ আর শক্ত। এমন হাতে তোলা, যারা প্রতিটি ডাল আর গিঁঠ চেনে। চেপে তেল বের করা হয়, যা প্রদীপ ভরায়, রুটিতে এমন স্বাদের প্রলেপ দেয় যা প্রাচীন আর পালনকারী দুই। এই গাছ ভূমধ্যসাগরের পাহাড়ের ধাপে পাহারা দেয়। মোচড়ানো কাণ্ড শতকের দেখাশোনার সাক্ষ্য। গল্পে আর শান্তিতে, পায়রার ধরা এক ডাল মানে ঝড় পেরিয়ে গেছে। মাটি আবার বসতি আর চাষের জন্য তৈরি। তাদের পাতা দিয়ে কবি আর ক্রীড়াবিদের মুকুট গড়া হত। সম্মান আর নরমতা একসঙ্গে এক চিহ্ন।
গ্রীষ্মের রান্নাঘরে কাঠের তাকে বোয়ামের সারি। কিছু লবণজলে ভরা, সেই একই ছোট ফল ধরে। সময় আর নোনায় স্বাদ গভীর। এক হাত চামচের দিকে বাড়ে, তারপর বাটির দিকে। সেই ফল থেকে চাপা তেলে খাস্তা শাক সাজায়। গন্ধ বাইরের বাগানের মতো তাজা। এক মা কাপড় ভাঁজ করে ঝুড়িতে রাখেন। প্রতিটির কিনারায় পাতার সহজ আকার আঁকা পাড়। দীর্ঘ নীরব সন্ধ্যায় সূচির কাজে সান্ত্বনা খোঁজা হাতের পর হাত দিয়ে আসা। কাছে এক হামানদিস্তা, দীর্ঘ ব্যবহারে মসৃণ, বাদাম আর ওষুধি গাছ পিষে এমন বাটা বানায় যা উষ্ণ বিকেল আর টালির উঠোনে নরম হাওয়ার স্মৃতি বয়ে বেড়ায়।
পুরনো গল্পে এই গাছ শান্তির চিহ্ন হয়ে দাঁড়াত। পবিত্র কুঞ্জের হৃদয়ে, আর গ্রামের কিনারায় লাগানো। খরা আর ঝড় সহ্য করত। শিকড় পাথুরে মাটির গভীরে। উৎসব আর কষ্ট দুই বছরের ভিতর দিয়ে পাতা কাঁপত। তাদের কাঠ শক্ত হাতা আর বাটি হত। পরিবারের টেবিলে খাবার ভাগ করার, পরিবেশন করার হাতিয়ার। তাদের তেলে জ্বলা প্রদীপের আলো পাথরের দেয়ালে কাঁপত, রান্নাঘর আর বাগানে গল্প ভেসে বেড়াত। পোকার গুঞ্জন আর দূরের জলের ছুটে যাওয়ার সঙ্গে মেশে।
আজ আপনি এই পাতার এক ডাল বইয়ের ভিতরে চেপে রাখতে পারেন। দূর পাহাড়ের গন্ধ ঘরের নীরবতায় পাঠানো। তাজা রুটিতে তেলের স্বাদ নিয়ে গতি কমাতে পারেন। স্বাদ শান্তি আর প্রাচুর্যের দিন মনে করিয়ে দিক। গাছের ছায়ায় বসে এক চিঠি বা কবিতা লিখতে পারেন। ভাবনা শিকড় আর ডালের মতো গজাক, স্থির, তাড়াহুড়ো ছাড়া। অথবা সন্ধ্যায় এক কাঠের হাতা চকচক না করা পর্যন্ত পরিষ্কার করতে পারেন। যেসব হাত গড়েছে, পরিবেশন করেছে, পুষ্টি দিয়েছে, তাদের মনে রেখে।
আজকের ভাগ্যের রং জলপাই।
Lucky Color: Olive — #808000প্রাচুর্যের এক নীরব উৎস। যা ইতিমধ্যে দেওয়া, তা ভাগ করার শক্তি।