এক তরুণ পথিক কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে বুনো থাইম খাড়ার ধারে ঘন হয়েছে, আর অজানা নিচ থেকে হাওয়া ছুটে উঠছে। এক কানে একটা গোলাপ গোঁজা, পাপড়ি প্রায় ওজনহীন, প্রতিটি নিশ্বাসে কাঁপছে। গোড়ালির ছোট কুকুরটা লাফাচ্ছে আর নিঃশব্দ উৎসাহে কামড়ে ধরতে যাচ্ছে, লেজ নাড়ছে যেন প্রতিটি পা এক নাচের অংশ। এক হাতে পথিক একটা হালকা থলি তুলছে, রুমালে ভরা একেবারে দরকারি জিনিসের চেয়ে ভারী নয়। অন্য হাতে ধরে আছে সম্ভাবনা।
পাহাড়ি গ্রামে ভোর। ঘাস শিশিরে ভেজা, বাগানে কুয়াশা নিচু হয়ে ঝুলছে। পথিকের জুতো এখনো শুকনো, দরজা থেকে দূরে যাওয়া সমতল পাথরেই শুধু পা পড়েছে, যেখানে নাস্তার টেবিল থেকে মিষ্টি সরের এক হালকা গন্ধ রয়ে গেছে। রান্নাঘরের জানালা খোলা, দুপুরের খাবারের জন্য হামামদিস্তায় এইমাত্র থেঁতলানো পুদিনার গন্ধে। সেই গন্ধ বাতাসকে ঠান্ডা করে, স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দেয়। জানালার ধারে একটা কলসি, চকচকে আর ফিকে, ঝরনার জলে ভরার অপেক্ষায়। উনুনে শুকোতে একটা তোয়ালে পাতা, সেই পাহাড়ের ঢালে ওঠা মেষশাবকের লোম আঁচড়ে বোনা সুতোয়। এই প্রতিটি জিনিস একটা শুরুর ইশারা। এমন সকাল, এত পরিষ্কার আর হালকা, যে মনে হয় শুরু যেন শেষ হয় না।
কিংবদন্তিতে আছে, উত্তরের হাওয়া পাহাড়ি পথে পুদিনার বীজ বয়ে নিয়ে যায়, আর রাখালেরা পাতা ছিঁড়ে কব্জিতে ঘষতেন, বিশ্বাস করতেন এতে তাঁরা সজাগ থাকবেন, ভুল পা থেকে বাঁচবেন। সরও ছিল নতুনত্বের দাগ। ভোরের পরপরই মন্থন করা, ঢাকনাওয়ালা ছোট পাত্রে ঢালা, দূরের মেলার পথে পথিকদের জন্য, বা সমুদ্রে বেরোনো মানুষের জন্য। উপকূলের শহরের পুরনো ব্যবসায়ী মহল্লায় বণিকেরা একসময় শণের কাপড় পাততেন, যা কুয়াশায় হালকা ঝিকমিক করত, এখনো আসেনি এমন কেনাবেচার ইশারা। লোককথায় আছে এক মেঘ, যা শুধু সবচেয়ে শুভ দিনে দেখা যায়। পাতলা, নরম, প্রায় মিলিয়ে যাওয়া, শিশুর গলার প্রথম প্রশ্নের মতো হালকা করে আকাশ ছোঁয়।
কোনো কোনো সকালে বৃষ্টি পাহাড়ের উপর এত নরম করে পড়ে যে পাতাও ভেজে না বললেই চলে। এমন দিনে পথিক বেরোয়, মুখে বাতাস অনুভব করে, ছোট ফোঁটা কোট আর কুকুরের লোমে জমে। যেন পৃথিবী ইশারা করছে, এখনই শুরুর সময়, পথ অনুসরণ করার, কুয়াশায় মিলিয়ে গেলেও মাটিকে বিশ্বাস করার। রওনা হওয়ার আগে চুপচাপ রান্নাঘরে এক কাপ গরম দুধ খাওয়া হয়, বাড়ির শেষ স্বাদ। সামনে কোথাও এক রুটিওয়ালা ময়দা ছড়িয়ে তক্তা মুছছেন, মণ্ড গড়ার আগে। এক মালি মাটিতে পুদিনার ডাল গুঁজছেন, গ্রীষ্মের ফসলের আশায়। পথিকের থলিতে সকালের তোয়ালের এক টুকরো, পথ লম্বা হলে স্মৃতি হিসেবে।
আজ আপনি সূর্যের সঙ্গে উঠতে পারেন, জানালা খুলে সকালের বাতাস ঢোকাতে পারেন, একসঙ্গে তীক্ষ্ণ আর নরম। চা বানানোর আগে আঙুলের মধ্যে পুদিনা ঘষতে পারেন, গন্ধ ত্বকে থেকে যাবে। সর থাকলে কফি বা ফলের উপর একটু ঢালুন, দিনের প্রথম ঘণ্টার চুপচাপ প্রতিশ্রুতির স্বাদ নিন। দরজার কাছে একটা কাপড় শুকোতে ঝুলিয়ে রাখুন, আলো ধরার জন্য তৈরি। এই প্রতিটি একটা পা, হালকা মনে আর খোলা, কিনারায় বোকার প্রথম পায়ের প্রতিধ্বনি।
আজকের ভাগ্যের রং পুদিনা সাদা।
Lucky Color: MintCream — #F5FFFAআশা নিয়ে পা বাড়ান। পথ খোলা।