উঁচু পথের কিনারায় এক পথিক থামে, হাতে শুধু একটা গোলাপ, আর একটা আনন্দিত কুকুর তার জুতোর চারপাশে ঘুরছে। বাতাস উজ্জ্বল আর ঠান্ডা, নতুন অধ্যায়ের প্রতিশ্রুতিতে জীবন্ত। প্রতিটি সামনের পা হালকা, বিশ্বাসী, একটু বেপরোয়া, যেন মাটি নিজেই তাকে আলতো করে এগোতে বলছে। চারদিকে জগৎ এমন জীবন্ত জিনিসে ভরা, যা চুপিচুপি শুরুর কথা বলে। পাতা খুলছে, ডাঁটা উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে, কাটা কান্ডের গন্ধ মাটি থেকে উঠছে।
পথের প্রথম বাঁকের কাছে বুনো পুদিনার তাজা কুশি একটা ছোট ঝরনার ধার ভরিয়ে আছে। তাদের ঝরঝরে গন্ধ উপরে ভাসে, শিশিরের সঙ্গে মেশে, আর কাছে এক জেলে হাঁটু গেড়ে বসে, নতুন উইলোর কান্ডে বোনা ঝুড়ি নিয়ে। জলের কিনারায় জলক্রেসের ছড়ানো থোকা মৃদু স্রোতে দুলছে, গোল পাতা প্রতিটি ঘূর্ণিতে কাঁপছে। পথিক থেমে এক মুঠো তোলে, ঠান্ডা হাতের তালুতে ঢুকতে দেয়, তারপর সবুজ শাক থলেতে গোঁজে। পৃথিবীকে তরুণ, খোলা, আর ভাঙা অসম্ভব মনে হয়।
পুরনো জাপানের এক ভবঘুরের গল্পে নায়ক এমন এক দুর্লভ গাছ খোঁজে, যা নাকি হারানো জোর ফিরিয়ে দেয়। সে ধানের খেত আর শ্যাওলা-ধরা পাথরের মাঝে বাঁকা পথ ধরে, দূরের কোকিলের ডাকে চলে। জলাভূমির শেষ প্রান্তে সেটা পায়, জট পাকানো ঘাসের মধ্যে একটা কাঁটাওয়ালা ডাল, যেখানে ব্যাঙ ভিজে চকচকে ঝোপের নিচে লুকোয়। গাছটা ভাঁজ করা ছুরি দিয়ে সাবধানে কাটা হয়, কাপড়ের এক টুকরোয় জড়ানো হয়, ধন হিসেবে বাড়ি নেওয়া হয়। বছরের পর বছর এই অনুষ্ঠান প্রতিটি ফলনের মরসুমের আশাভরা শুরুকে চিহ্নিত করে।
প্রোভাঁসের এক গ্রামে বাগানের হালিমের প্রথম কাটা একটা রীতি। শিশুরা খালি পায়ে রান্নাঘরের বাগান দিয়ে দৌড়ায়, সবচেয়ে নতুন, সবচেয়ে নরম পাতা ছিঁড়ে স্যুপের বাটির উপর ছড়ায়। তাদের হাসি মালির কূপ থেকে জল তোলার শব্দের সঙ্গে মেশে, আর উইলোর ডাল বেঁধে বানানো ঝাড়ুর নরম ঘষার সঙ্গে। ঘরের ভিতরেও এক ডাল পুদিনা সাদামাটা খাবারের পাশে টেবিলে রাখা থাকে, এই ইশারায় যে বাড়া আর নতুন হওয়ার চক্র চলছে।
বৃষ্টি নামে, হঠাৎ একটা খেলাচ্ছলে ঝর, এমন ঝর যা ছাদ কালো করে আর মাটি থেকে থেঁতলানো গাছের গন্ধ তোলে। পথিক দমে না, হাসে, মুখ আকাশের দিকে ঘোরায়, ত্বকে নরম ফোঁটা অনুভব করে। এই মুহূর্তে সব সম্ভব মনে হয়। সামনের পথ ধুয়ে পরিষ্কার, পুরনো ভয় ধুয়ে গেছে, বাতাস চুপচাপ আশায় ঝিলমিল করছে।
আজ কেউ সালাদ উজ্জ্বল করতে তাজা পুদিনা বা হালিম তুলতে পারে, বা ঝরনার ধারে থেমে দেখতে পারে জল শিকড়-ধরা সবুজের থোকা পেরিয়ে কীভাবে ছোটে। এইমাত্র তোলা পাতার চা এক কাপ বানানো নতুন কিছুর শুরুকে চিহ্নিত করতে পারে, আর ছোট রান্নাঘরের বাগানের যত্ন, বা পথের ধারে শাক তোলা, সাধারণ দিনে অভিযানের অনুভূতি আনতে পারে।
আজকের ভাগ্যের রং বসন্তের সবুজ।
Lucky Color: SpringGreen — #00FF7Fনতুন গাছের গন্ধ, বা ঠান্ডা বৃষ্টির ছোঁয়া, আপনার যাত্রাকে জাগাক।