ঝুলন্ত মানুষ হলেন ঝোলানো মূর্তি, স্থিরতারও অনেক দূরে ধীর এক ছবি, যেখানে চলা এক ধারণা, কাজ নয়। সোজা হলে কার্ড ছেড়ে দেওয়া চায়। কিন্তু উলটো হলে সেই পরের মুহূর্ত ধরে। সময় নিজেই থেমেছে, কিন্তু মন থামা মানতে পারে না। তারপর যা আসে তা বিশ্রাম নয়, অস্থিরতা। নড়ার তাড়না, আবার শুরু করার, গোড়ালি বাঁধা গিঁটেরই বিরুদ্ধে ঠেলার।
এমন বাধার শেষে যে জগৎ অপেক্ষা করে, তা হাওয়াভরা চূড়া বা উজ্জ্বল তৃণভূমি নয়। তা মাটি, ফসলের পর নীরব, গত বছরের ডাঁটায় ঘন, বৃষ্টির স্মৃতিতে। কৃষক লাঙলের পর ক্ষেত হাঁটেন, বুটে মাটির ভার, মরশুমের পরিশ্রম থেমেছে শেষ হওয়ার জন্য নয়, জগৎ নিজেই “থামো” বলেছে বলে। তবু চোখ লাঙলের দাগ খোঁজে, হাত হারানো কোদালের জন্য নড়ে, স্থিরতাকে অভিযোগের মতো অস্বীকার করে।
ইতিহাস এই দাগে লেখা। গ্রামাঞ্চলের পুরোনো রাস্তা, অগণিত গাড়ির চাকায় চ্যাপটা, সবসময় কোথাও যাচ্ছে বলে মনে হয়, এমনকি যখন তালাবন্ধ ফটক বা জট পাকানো বেড়ায় শেষ হয়। বয়ে নিয়ে যাওয়ার তাড়না থাকে, বোঝা বইতে থাকার। কফির বস্তা, বাদামের বাক্স, তামাকপাতার আঁটি, দিনের জন্য যাত্রা শেষ ঘোষণার অনেক পরেও। মোড়ে সাইনবোর্ড আবহাওয়াপড়া কাঠ, এমন হাতের খোদাই যারা অলস দাঁড়াতে পারত না, প্রতিটি অন্য শহর, অন্য কাজের দিকে। এমনকি সরাইয়ের টেবিল, প্রজন্মের বিশ্রামরত কনুইয়ে পালিশ, পুরোনো ছলকানো চায়ের দাগ ধরে, এমন দাগ যা কখনো পুরো যায় না, আর দুবার ঠিক এক অর্থ বহন করে না।
পুরোনো গল্পে জেদি বলদের কাহিনি আছে, লাঙল শেষ হলেও জোয়াল থেকে মুখ না ফেরানো, খড়ের মধ্যে কোমর পর্যন্ত দাঁড়ানো, এমন হুকুমের অপেক্ষায় যা আসবে না। মিলের শিক্ষানবিশের কাহিনি আছে, তুষে মাথা থেকে পা ধুলোমাখা, ভোরের আগে উঠে জাঁতার পাথর দেখা, ঘুমোতে না পারা এই ভয়ে যে শস্য তৈরির আগেই সকাল আসবে। পুরাণে অনড় মুহূর্ত সবসময় জয় নয়। কখনো বদলাতে অস্বীকার, পতিত মরশুমকে বিশ্বাস না করা, অপেক্ষায় অর্থ না দেখা।
এই ভূমি দিয়ে হাঁটতে হলে তালু টেবিলের উপরে রাখা হয়, আঁশ অনুভব করা হয়, অথবা খালি আঙুল বাগানের বিছানার ঠান্ডা দোআঁশে মাটিতে ডোবানো হয়। রান্নাঘরের ড্রয়ার খুললে কাঠের চামচ, হাজার ঝোলে ডিম্বাকার ক্ষয়ে যাওয়া, অথবা বেলে কাঠ যা এককালে দুপুরের খাবারের জন্য ময়দা খসখসে গোল করে গড়েছিল। কোনায় ঝাড়ু দাঁড়ানো, ব্যবহারের শক্ত ব্রিসল ভোঁতা, মেঝেতে প্রতি টান শৃঙ্খলার ছোট জেদ। দূর এক শহরে আবহাওয়া ঘোরে, হাওয়া পড়া পাতার গন্ধ ও বৃষ্টিভেজা মাটির প্রতিশ্রুতি আনে। ভিতরের বাতাসে সেঁকা রুটির স্বাদ, মোড়ের দোকানে ঝলসানো কাঠবাদাম, জোর করে তৈরি কফি যা পুরোনো খতিয়ানের স্তূপের পাশে ঠান্ডা হতে রাখা।
আজ প্রতিদিনের জাঁতায় ফিরলে সান্ত্বনা আসতে পারে। দুই হাতে ময়দা মাখা, আখরোটের খোলের খাঁজ বুলানো, চেয়ারের আসন থেকে খসখসে কিনারা বালি করা, অথবা উঠোনের চুপ কোনায় সার উল্টে দেওয়া। প্রতি কাজ জগতের থামা মেনে নেয়, যা থেমে আছে তা থেকে অর্থ গড়ে, হাতের কাছে থাকা হাতিয়ার ও ফসল থেকে।
আজকের ভাগ্যের রং বাদামি।
Lucky Color: Brown — #A52A2Aমাটি ও কাঠের গন্ধ আপনার ধৈর্যের পথ দেখাক।
থামুন, দেখুন যাত্রা ধীর হলে কী টিকে থাকে।