Colors for the Fool

আজকের ভাগ্যের রং, ট্যারো থেকে তোলা

একটি কার্ড তুলুন / মহাযাজিকা

মহাযাজিকা, ফিকে বেগুনি। রং মাঝের আয়নায় দেখা যায়।

ফিকে বেগুনি

সোজা · #E6E6FA

দুটি স্তম্ভ, নীরব আর অনড়, এক ঘরের দরজা ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে জ্ঞানের সুতো বাতাসে ঝুলে থাকে, আধো দেখা। তাদের মাঝে এক পর্দা নেমে আসে, এত সূক্ষ্ম বোনা যে ওপারের জগৎ ঝাপসা লাগে। শান্তিকে ডাকে, কিন্তু ঢুকতে দেয় না। স্তম্ভের গোড়ায় এক পুঁথি মহাযাজিকার কোলে রাখা। তার অক্ষর চামড়ার কাগজের আলতো বন্ধ হয়ে লুকিয়ে আছে। পুঁথি মোমে নয়, অপেক্ষার ধৈর্যশীল নীরবতায় সিল করা। তাঁর পেছনে জল স্থির পড়ে আছে, গোপন কথা আর প্রতিবিম্বের প্রতিশ্রুতি ধরে রাখা এক আয়না।

ঘরের ওপারে, যেখানে উষ্ণ হাওয়া নিচু পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, এক পুরনো সুগন্ধি গাছের ক্ষেত প্রায় চোখের শেষ পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। অনেক আগে ভিক্ষুরা এই গাছের আঁটি পাথরের দেয়ালওয়ালা গ্রন্থাগারে নিয়ে যেতেন। পোকা আর ধুলো থেকে কথাগুলো বাঁচাতে পাণ্ডুলিপির ওপর ছোট বাটিতে রাখতেন। সেই গ্রন্থাগারের নিস্তব্ধতায় পণ্ডিতেরা পাতা উল্টাতেন, আর গন্ধ অস্থির মনকে শান্ত করত, ভাবনাকে ভিতরের দিকে নিয়ে যেত। এই গাছ, সরু ডাঁটা আর মৃদু কাঁটা নিয়ে, প্রাচীন মঠের গোলকধাঁধা বাগানের কিনারা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। পরিচর্যা করা জায়গা আর ওপারের বুনোর মাঝে এক সীমানা।

শত শত বছর ধরে এই ক্ষেত পথিকদের টেনেছে। তাদের পথ মৌমাছির মৃদু গুঞ্জনে দাগানো। দক্ষিণ ফ্রান্সের হাটে আঁটি সুতোয় বাঁধা হয়, মধু আর সাবানের পাশে বিক্রি হয়। গাছের শুকনো ফুল ছোট থলিতে ভরে টানার ভিতরে আর আলমারিতে ঢোকানো থাকে, কাপড়চোপড়ের গভীরে চাপা। কাপড়ের পোকা তাড়ায়, আর ঘরের শান্ত কোণে এক পুরনো, স্থির বাতাস দেয়। রান্নাঘরে ডালপালা চিনিতে ভিজিয়ে বিস্কুটে ভাঁজ করা হয়, অথবা মধুর বোয়ামে ঢোকে। মিষ্টিতে এক ধীর, ফুলের গন্ধ মেশায়।

রোমান আমলে এই ফুলের মুঠোর ওপর জল ঢেলে, তারপর স্নানের পুকুরে ঢালা হত। মনে করা হত, এতে মন পরিষ্কার থাকে, উদ্দেশ্য নির্মল থাকে। রোদ মাথার ওপর এলে ক্ষেত সকালের পাতলা কুয়াশায় ঝিকিমিকি করে। এক সংক্ষিপ্ত আবহাওয়া, যা প্রতিটি ডাঁটা আর পাপড়ির রেখা নরম করে দেয়। বিকেলের শেষে সেই গাছগুলো গ্রীষ্মের বৃষ্টির পর নেমে আসা নীরবতায় মাথা নাড়তে পারে। বাতাসে ভরা থাকে এক উষ্ণ, পরিষ্কার গন্ধ।

এমন জায়গা আছে যেখানে নারীরা ভোরে ফুল তোলেন, শিশির তখনও হাতে লেগে থাকে। তাঁদের ঝুড়ি উইলোর ডাল দিয়ে বোনা, খাটো আর চওড়া, যাতে ফসল শুকোতে শুকোতে বাতাস বয়ে যায়। গুদামের ঠান্ডা ছায়ায় ফুল কড়িকাঠ থেকে ঝোলানো থাকে। মাসের পর মাস ঘরে এক গন্ধ থেকে যায়। কারিগররা শুকনো ডাঁটা জড়ো করে লাঠিতে বোনেন, তারপর সৌভাগ্যের জন্য ফিতে বাঁধেন, অথবা শান্তির চিহ্ন হিসেবে দেন। শোবার ঘরের নীরবতায় হাতে সেলাই করা এক ছোট থলি বালিশের নিচে ঢোকানো হয়, মৃদু স্বপ্ন ডেকে আনে।

নীরবতার মধ্যে আপনি শুকনো ফুল এক ছোট থালায় ভরে, পড়ার সময় প্রিয় চেয়ারের কাছে রাখতে পারেন। পাপড়ি জলে ভিজিয়ে ঘরের চৌকাঠে ছিটিয়ে দিতে পারেন, শান্তির অনুভূতির জন্য। ডায়েরি রাখলে একটা ডাঁটা পাতার মাঝে চেপে রাখুন, স্মৃতি আর গন্ধ মিশুক। অথবা জানালার পাশে বসুন, এই ফুলে ভেজানো এক কাপ চা হাতে, ভিতরের দিকে শুনুন। মহাযাজিকা যেমন অপেক্ষা করেন, তেমন অপেক্ষা করুন, গোপন কথা নিজের সময়ে খুলুক।

আজকের ভাগ্যের রং ফিকে বেগুনি।
Lucky Color: Lavender — #E6E6FAযা নরম আর লুকানো, তাতে ভরসা রাখুন।
নীরব অন্তর্জ্ঞানের এক দিন।

ফিরে যান — মহাযাজিকা