মাঝের শান্ত মুহূর্তে দুজন একসঙ্গে দাঁড়ায়, হাত কাছে কিন্তু ছোঁয় না, কথা সেই ফাঁকে আটকে, যেখানে নিশ্বাস টের পাওয়া যায় কিন্তু ভাগ হয় না। চারপাশে পৃথিবী এমন যোগের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা হতে পারত, কিন্তু বেছে নেওয়া হয়নি। পুরোনো গল্পে সবসময় এক মোড় থাকে, যেখানে পথ ফেটে যায়। অরফিউস ইউরিদিসের দিকে হাত বাড়িয়ে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে তাকায়। পাতালের দোরগোড়ায় প্রেমীরা আশা নয়, স্মৃতিতে ডেকে ফেরে। এখানে দোরগোড়া এক রান্নাঘরের টেবিল, প্রজন্মের ব্যবহারে মসৃণ, সিদ্ধ ফল আর ছলকে পড়া কফির দাগে দাগী, সন্ধ্যায় কথা একসময় বইত, তখন কনুইয়ের বিশ্রামে কাঠ গোল হয়েছে।
বাইরের মাটি শুকনো, গ্রীষ্মের ধুলোমাখা, রোদে পাকানো বাদামের ছাল আর চামড়ার রং। দূর শহরের হাটের দোকানে মরসুমের শেষের ডুমুরের ঝুড়ি মোটা আর ফাটা খোসার রুটির পাশে দাঁড়ায়, ধৈর্যের খাটুনি আর ধীর চুল্লির গরমের চিহ্ন। খোলা বয়াম থেকে দারচিনির গন্ধ থেকে যায়, সেঁকা চেস্টনাটের হালকা সুবাসের সঙ্গে মেশে, প্রতিটি খোসা ফাটা, পুরোনো লোহার ট্রেতে ঠান্ডা হচ্ছে। এই স্বাদ আর গড়ন হাত থেকে হাতে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অচ্ছুঁয়ে পড়ে থাকে, টেবিলে তাদের উষ্ণতা মিলিয়ে যায়।
দিগন্তের পর্বতমালা প্রাচীন বাণিজ্যপথ মনে করিয়ে দেয়, যেখানে বণিকরা গাধা নিয়ে বাঁকা পথে চলত, খেজুর আর নরম পশম বদল করত তামার হাঁড়ি আর বোনা গালিচার সঙ্গে। সকালে কখনো এই শৈলশিরার ওপর কুয়াশা ওঠে, ক্লান্ত কাঁধে টানা শালের মতো উপত্যকায় বসে। তবু সন্ধ্যা নামলে হাওয়া শুকনো এক দম আনে, বাতাস ধুলোয় ঘন, যে বৃষ্টির প্রতিজ্ঞা কখনো আসে না। চালের নিচে শুকনো গোলাপের এক আঁটি উলটো ঝোলে, পাপড়ি ভেতরের দিকে কুঁকড়ে, যে সুবাস পারে তা বাঁচায়। বাগানের পুরোনো মাটির টব, একসময় সুগন্ধি মটর ফুলে ভরা ছিল, এখন শুধু গত বছরের ফসলের অবশিষ্ট, খোসা আর ভঙ্গুর ডাঁটা।
ভেতরে নিচু এক টুলে এক জোড়া দস্তানা পড়ে আছে, হাতের তালুতে নরম চামড়া মসৃণ, যে শরতের হাঁটা কখনো হয়নি তার জন্য তোলা। বিবর্ণ এক আরামকেদারার হাতে এক কোট ঝোলানো, একসময় কাঁটাঝোপে ছিঁড়েছিল, ভেতরের আস্তরণ সেখানে তালি দেওয়া। এ ইচ্ছা সরিয়ে রাখার চিহ্ন, শুরু হওয়া কিন্তু শেষ না হওয়া ইশারা। সন্ধ্যা গভীর হলে ঘরের নিস্তব্ধতা বাড়ে, তালা না-দেওয়া এক খিলের মৃদু শব্দে থামে, উত্তরহীন এক ডাক।
এই দিন মৃদুভাবে পার হতে, কেউ ছোট এক থালায় এক মুঠো শুকনো ডুমুর রাখতে পারে, তাদের মিষ্টতা জিভে থাকুক। অন্য কেউ এক মুহূর্ত নিয়ে কাঠের টেবিলে তেল মাখাতে পারে, কাপড় ধীর বৃত্তে বুলিয়ে পৃষ্ঠে কিছু চকচক ফেরাতে। পুরোনো আঁটির নিচ থেকে পড়া গোলাপের পাপড়ি তুলে পকেটে গুঁজলে গ্রীষ্মের স্মৃতি কাছে আসতে পারে। বা জানলার ধারে থেমে দেরির রোদের রেখায় ধুলো উঠতে আর বসতে দেখে, কেউ মেরামতের ধৈর্যের কাজ মনে করতে পারে, আর অপেক্ষায় পড়ে থাকা কোটের আস্তরণ সেলাই করতে ছুঁচ তুলতে পারে।
আজকের ভাগ্যের রং গোলাপি বাদামি।
Lucky Color: RosyBrown — #BC8F8Fস্থিরতায় ছোট কাজ উষ্ণতা ফেরাতে পারে, যেখানে কথা মিলিয়ে গেছে।
পুরোনো জিনিসের গড়ন আপনাকে আলতো করে পছন্দের দিকে ফেরাক।