চাঁদের নিচে রাতের পথ আর তীক্ষ্ণ নয়। যেখানে একসময় বুনো আর পোষা রাস্তার কিনারায় মিলত, তাদের আকার ঘোলা, তাদের নাম গিলেছে সেই কুয়াশা যা মাটি ঘেঁষে নিচু হয়ে জমে। আকাশ ভারী আবহাওয়ায় ঘোরে, মেঘ চেপে বসে, পৃথিবীকে আরও শান্ত করে। কুঁড়ের ছাদ, বৃষ্টির পর পিচ্ছিল, স্লেট পাথরের মতো অস্বচ্ছ হয়ে যায়। জল কিনারায় জমে, গড়িয়ে নামে, এমন নালা দিয়ে যা দিনের পর দিন রোদ দেখেনি। ছাদের নিচে এক রাখালের পুরোনো কোট ঝুলে ভুলে থাকে, কাপড় ব্যবহারে মোটা, পশমের চর্বির গন্ধ আর তার চেয়েও গভীর কিছু বয়ে। মাটি, দীর্ঘ ঘোরা, আর ফাঁকা মাঠের ওপারে ভেড়ার ডাকের স্মৃতি।
দূরে পাহাড় ওঠে, তাদের পাথুরে কোল শতকের হাওয়ায় মসৃণ। এখানকার পাথর পুরোনো সীমান্তের যুদ্ধ আর মধ্যরাতের যাত্রা দেখেছে, তাদের ছায়ার তলা দিয়ে বাণিজ্যপথ গেছে। খনিশ্রমিকরা একসময় মূল্যবান পাথরের জন্য পাশ কেটেছে, এমন লণ্ঠন নিয়ে যার কাচ অনিশ্চিত শিখায় কাঁপত। রাতে এই ঢাল দিগন্তে মিশে যায়, নিচু আকাশ থেকে আলাদা করা যায় না। পথিকরা তাদের যাওয়া দাগায় ভেজা চ্যাপটা পাথরে জুতোর শব্দে, আর দূরের এক পাখির ডাকে, কখনো নিশ্চিত নয় সে বুনো না ঘরমুখো।
কাছে, রান্নাঘরে, একটা ভারী বাটি কাঠের টেবিলে বসে। তার প্রলেপ বাড়ির মতোই পুরোনো, নদীর কাদায় গড়া ভাটিতে পোড়ানো, এই দরজা দিয়ে যাওয়া প্রতিটি খাবারে পাকা। বুনো বেগুনি ফুলের এক মোটা বাণ্ডিল এক বয়ামে চুপচাপ নুয়ে থাকে, ডাঁটা জট পাকানো, গন্ধ এত হালকা যে ঘর ভরে না। ফুলগুলো হারানো ঋতু মনে রাখে, উপত্যকায় উঠে আসা ঝড়, আর সেই সকাল যখন কুকুর আর নেকড়ে দুজনেই ঝরনার দিকে একই পথ মাড়াত। বাগানে বাতাস স্থির, প্রতিশ্রুতিও নয়, সতর্কতাও নয়, শুধু গভীর অপেক্ষা।
কিছু সন্ধ্যায় জেলের জাল দাগওয়ালা সমুদ্রমাছ নিয়ে ভারী হয়ে ঘরে আসে, লণ্ঠনের আলোয় তাদের আঁশ হালকা ঝিকমিক করে। নৌকা খাঁড়ি দিয়ে ফেরে, পাল গোটানো, কাঠ লোনা জলে কালো। এখানকার জল দ্রুত বুজে যায়, দাঁড় আর খোলের চিহ্ন গিলে নেয়, তাই ভোর হলে শুধু পার হওয়ার স্মৃতি থাকে। বন্দরের কিনারার পানশালায় পুরোনো গল্প কোণের আসনে বলা হয়, যে আসনে বাতির চেয়ে ছায়া বেশি, যেখানে গোপন কথা নীরবতার বদলে বদল হয়।
রাত ঘন লাগলে আর সামনের পথ অনিশ্চিত হলে, আপনি সেই পুরোনো রাখালের কোট গায়ে তুলতে পারেন, খোলা জানালার পাশে দাঁড়াতে পারেন, আর স্যাঁতসেঁতে হাওয়া গা ছুঁয়ে যেতে দিতে পারেন। বাটির চারপাশে হাত গরম করুন, বুড়ো আঙুল দিয়ে তার কিনারা আঁকুন, আর মনে করুন সেই খাবার যা সবাইকে ঘরে এনেছিল। কাজের টেবিলে বুনো বেগুনি ফুলের এক ডাল বাঁধুন, বা এই সপ্তাহের চিঠির পাতার মধ্যে একটা চেপে রাখুন। বন্দরের পাশ দিয়ে গেলে কোণের আসনে থামুন, বাতির আলোয় ঢোকা-বেরোনো গল্প শুনুন, আর চুপচাপ সঙ্গে নিয়ে যান।
আজকের ভাগ্যের রং গাঢ় পাথরের নীল।
Lucky Color: DarkSlateBlue — #483D8Bআজ রাতে কুয়াশা যা নেয় তা রাখুক, শুধু যা দরকার তা ফেরাক।
আস্তে হাঁটুন। পথ মনে রাখে।