চাকা ঘোরার মাঝপথে থামে, তার খোদাই শিক কাতরায় যখন অদেখা হাত কিনারা আঁকড়ে ধরে। তার কিনারায় চড়ে থাকা গূঢ় জীব, সিংহ, ষাঁড়, ঈগল, ফেরেশতা, নিচের দিকে তাকায় বলে মনে হয়, যেন সেই টানের জন্য শক্ত হচ্ছে যা তাদের আরামের চক্র থেকে টানে। কেউ চাকা ধরে জায়গায় রাখতে চায়। অন্যরা শুধু ভয় পায় নিচে কী আছে। চাকার নিচমুখী চেহারার বুকে এক ভার, শক্ত আর জেদি, যেন কীলকে আটকানো দরজা বা ভেজা মাটিতে আটকে যাওয়া গাড়ির চাকা। এই মুহূর্তে নিয়তি নদীর মতো লাগে না, নালার মতো। এক খাদ, অগণিত পা আর ক্ষুরের পুনরাবৃত্তিতে দোআঁশ মাটিতে চাপা।
পুরোনো গল্প বলে ভাগ্যের চাকার কিনারা মাটিরই পদার্থে, মাঠ আর বনের অবশিষ্টাংশে মাখা হাতে গড়া। প্রাচীন ব্যাবিলনে লিপিকারেরা তাদের হিসাব চাষ-করা মাটির রঙের ফলকে চাপত, প্রতিটি দাগ সম্ভাবনার স্থায়ী নথি। মধ্যযুগের ইতালির জুয়াড়িরা হ্যাজেলকাঠ থেকে খোদাই করা ছক্কা গড়াত, তাদের তল অস্থির হাতের তালুতে মসৃণ। এখনও, নদীর ধারে সারিবদ্ধ বা খাদের মধ্যে বসা গ্রামে, চাকা কাটা মাঠের খোসা ভাঙে, গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে তাদের চলা ধীর। এই জায়গায় নিয়তি ঘুরন্ত মুদ্রা নয়, উনুনের মৃদু তাপে ফোলা এক রুটি, বা উপরের মাটিতে চাপা এক বীজ, বসন্তের অপেক্ষায়।
ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে না চাইলে বাতাস কাছাকাছি আর ভারী হয়, মাড়াইয়ের পর গোয়ালের মতো। জমানো শস্যের গন্ধ আছে, উইলো আর ওক থেকে বোনা ঝুড়ির চুপচাপ উপস্থিতি। বাইরে আবহাওয়া থিতোয়। বাতাস শরতের স্যাঁতসেঁতেতে ঘন, যখন আকাশ আর জমি এক ধোঁয়াশায় মেশে আর ভারী জুতো প্রতিটি চৌকাঠে লেগে থাকা দাগ রাখে। হাটের ডেরা ঋতুর ফলে ভরা। আলু, বিট, আর শিকড় যা গভীর নিচ থেকে তাদের পদার্থ টেনেছে। এমন আবহাওয়ায় ভাগ্য বুনোও নয় নিষ্ঠুরও নয়। এ ধৈর্যশীল, ধীর জমা, ছাদের নিচে বিশ্রামের এক সুযোগ।
ঘোর শেষ হওয়ার আগে চাকা থামানো মানে যা টিকে থাকে তার দিকে হাত বাড়ানো। প্রজন্মে ওল্টানো নালাকাটা মাঠ জোয়াল আর লাঙলের স্মৃতি ধরে। দোকানি, চওড়া বিক্রির তক্তায় মুদ্রা গুনে, ধৈর্যের দাম আর ছোট লাভের ভার জানে। পথিকেরা রাস্তার ধারের সরাইয়ে থামার গল্প আছে, বছরের কনুই আর কাপে পালিশ হওয়া লম্বা আসন বরাবর তাদের যাত্রা আঙুল দিয়ে অনুসরণ করে। রান্নাঘরে কাঠের চামচ সারা বিকেল ফোটা ঝোল নাড়ে, সূর্য বেড়ার রেখার পিছনে ঝুঁকে পড়লে তাদের স্বাদ গভীর হয়। চাকা যখন নিচের দিকে মুখ করে, ধীর কাজের দাম আর পুনরাবৃত্তির চুপচাপ মর্যাদা মনে করার সময়।
আজ ভাগ্য তাদের পক্ষে যারা নিজেদের মাটিতে রাখে। আপনি এক রুটি বানাতে পারেন, ময়দা আপনার হাতের নিচে নরম হোক আর ফুলুক। মেঝে ঝাঁট দিন, দিনের ধুলো মনোযোগ দিয়ে কুড়ানোর পাত্রে তুলুন। কিছু লাগান, একটা ওকফল, একটা কন্দ, এক আশা, কাছের মাটির টুকরোয় বা জানালার পাশের পাত্রেও। বা কফি বা চকলেটের এক টুকরো নিয়ে বসুন, তাদের স্থির উষ্ণতা আপনাকে এই মুহূর্তে শিকড় গড়াক। এগুলোর প্রতিটি ধৈর্যের কাজ, চাকায় এক আলতো হাত, পরের অনিবার্য ঘোরের আগে তাকে থামতে দেয়।
আজকের ভাগ্যের রং বাদামি।
Lucky Color: Brown — #A52A2Aঘোরার মধ্যে এক বিরতি, এমন ভার যা মনে রাখে।
যা মাটিতে গাঁথা তা টিকে থাকে।