কার্ডে এক আরোহী। এক হাতে ফিকে গোলাপে ছিটানো এক পতাকা, আর তার পেছনে ভোর দুই মিনারের মাঝে ঠেলে ওঠে। এই সেই মুহূর্ত যখন পুরোনো কিনারা ভেঙে পড়ে, পরের জিনিস ফাঁক দিয়ে ঝিলমিল করে। জগৎ চুপ, প্রথম পাখির ডাকের আগের নিশ্বাসে ভরা। বাতাস প্রায় তুষার, এমন সকালের মতো যখন মাটি এখনো গলেনি কিন্তু শীতের মুঠোতে আর আঁকড়ে নেই। এখানে প্রতিশ্রুতি যা শেষ হয় তাতে নয়, তারপর যা গড়ে তাতে। নতুন আলোয় যা চুপচাপ এগিয়ে আসে।
সূর্যোদয়ের ঠিক পরের ঘণ্টায় সন্ন্যাসীরা এককালে নীরব বারান্দা হাঁটত, পা চুনাপাথরের মেঝে বুলাত, শতাব্দীতে মসৃণ। তাদের হাত প্রার্থনায় ক্ষয়ে যাওয়া পুরোনো পাথরের আকার বুলাত। তারা রং না করা শণ পরত, কোমরে জড়ানো পোশাক, হাড়ের মতো সাদামাটা কিন্তু অনেক ধোয়ায় নরম। এই পোশাক, রঙের দাগহীন, ঢাল ও আমন্ত্রণ দুটোই ছিল, এক ফাঁকা যা দিনের অর্থ ইশারা ও কথায় লেখার অপেক্ষায় থাকত।
অন্যত্র, উঁচু হিমালয়ে, পথিকেরা এমন সকাল পেত যেখানে কুয়াশা পাহাড়ি গিরিপথ জড়িয়ে থাকত, প্রার্থনার পতাকা ও তুষারে কামড়ানো পাথরের চারপাশে কুণ্ডলী হতো। এ কুয়াশা নয়, যা লেগে থাকে ও ঝাপসা করে, আরও সূক্ষ্ম কিছু। পথের উপর বুলিয়ে তারপর চলে যেত, পেছনে এমন বাতাস রেখে যার স্বাদ যেন কখনো ধুলো ধরেনি। আল্পসের উপত্যকায় তুষারফুল পুরোনো পাতা ভেদ করে উঠত, ঘণ্টা আকারের ও কাঁপা, পুরোনো মরশুমের শেষ ছেঁড়ার মধ্যে। এখানকার জগৎ জঞ্জাল থেকে খালি ছিল, সব ছাঁটা যা বাঁচে ও টিকে থাকে তাতে।
প্রাচীন রোমে বৈদ্যরা মসৃণ চিনামাটির বাটি রাখত, বাইরে প্রলেপহীন, অচকচকে ও ছোঁয়ায় ঠান্ডা। তারা ভিতরে শাক ও শিকড় বাটত, আনিস ও মৌরির গন্ধ বের করত, গুঁড়ো তুলে গ্রীষ্মের স্মৃতি নিশ্বাসে নেওয়ার ঠিক মুহূর্তের অপেক্ষায়। বাটি প্রথম আলোয় ঝিলমিল করত, নরম এক চমক যা চোখ প্রায় ফেলে দেয়। কিয়োতো থেকে নরম্যান্ডি পর্যন্ত রান্নাঘরে রাঁধুনিরা ময়দা আটকানো আটকাতে টেবিলে চালের গুঁড়ো ছড়াত, এত সূক্ষ্ম এক পর্দা যে প্রথম ছোঁয়ায় মিলিয়ে যেত, শুধু তালুর ছাপ বা বেলে কাঠের টান রেখে।
আবহাওয়াও কখনো এই রেখা পরে। ব্রতাঁর উপকূলে সূর্যোদয়ের আগে সমুদ্রকুয়াশা গড়ায়, মাছ ধরার গ্রাম ঢাকে। নোঙরের খুঁটি থেকে জাল ঝোলে, সকাল ডাঙা ও সাগরের মাঝে ঝোলানো, যা ছিল ও যা ধরা হবে তার মাঝে। কুয়াশা ওঠে, জগৎ অপেক্ষা করে, ধুয়ে ও স্থির।
এই রেখা দিনে আনতে নাশতার আগে কোলে শণের রুমাল মসৃণ করতে পারেন, কাপড়ে সকালের নিস্তব্ধতা অনুভব করে। প্রথম আলোয় এক ছোট পথ হাঁটতে পারেন, শহর নড়ার আগে বাতাস মুখে বুলুক। এক তুষারফুল পেলে জানালার ধারে বাটিতে রাখুন, শেষের পর যা আসে তার চুপ চিহ্ন। হাত ধোয়ার পর পুরোনো সুতির কাপড়ে মুছুন, নরম ও অলংকারহীন, পরের জিনিসে হাত বাড়ানোর আগের থামা লক্ষ করুন।
আজকের ভাগ্যের রং ফ্যাকাশে সাদা।
Lucky Color: GhostWhite — #F8F8FFশেষের এক আকার আছে। শুরু তাদের কিনারায় চুপচাপ অপেক্ষা করে।
নরম পার হওয়ার এক দিন।