পুরোনো কার্ডে বর্মপরা মূর্তি থামে, ঘোড়ার খুর স্থির। পতাকা খোলা থাকে, কিন্তু এখানে, এই উলটো অবস্থায়, কিছুই সামনে নড়ে না। মূর্তির পায়ের কাছে পড়া মুকুট তুলে ধরা হয়, আশা নিয়ে নয়, এমন হাতে যা ছাড়তে পারে না। যা সরে যাওয়ার কথা তা থেকে যায়, যেন ইতিহাস কোলে রাখা যায়, পাহাড়ের পেছনের প্রথম ফিকে আলো উপেক্ষা করা যায়।
ভোলা প্রাসাদের আবছা ঘরে কাচের বাক্সে নিদর্শন আছে। অব্যবহারে শক্ত হওয়া দস্তানা, কলঙ্কিত ব্রোচ, মোমে সিল করা ফিকে চিঠি। কাছে তাকালে শুকনো গোলাপের পাপড়ি থেকে পড়া মৃদু গুঁড়ো দেখবেন, পুরোনো বইয়ের পাতার মাঝে চাপা। এ তাদের সংগ্রহ যারা শেষ হতে দিতে পারে না। তাদের স্মৃতি শুকনো ফুলের গন্ধে, দীর্ঘ ক্ষয়ে যাওয়া চামড়ার আঁশে, ডালে বেশি দিন থাকা আপেলের লালচে আভায় ধরা। এই জায়গার বাতাসে দারুচিনির বাকলের স্মৃতি, উনুন গরম করে যদিও কোনো আগুন জ্বলে না।
প্রাচীন স্তেপ পার হতে গিয়ে তাদের আবহাওয়াপড়া চামড়ার তাঁবু মেলে যারা অতীত সঙ্গে বয়ে নিয়ে যায়। দাদির তাঁতে বোনা গালিচা মাটিতে পাতা, অগণিত পায়ে তাদের নকশা নরম। সন্ধ্যার হাওয়া এক ধোঁয়া আনে, ঝড়ের নয়, সেই পথ থেকে ওঠা ধুলোর যেখানে পাল প্রজন্মের পর প্রজন্ম পার হয়েছে। টানা তাঁবুর কাপড়ের নিচে ফাটা মাটির কাপে চা সেঁকে, তার সুবাস চুপ মনে করিয়ে সেই হাতের কথা যারা পাত্র ও পাতা দুটোই গড়েছে। এখানে অতীত ঠান্ডার বিরুদ্ধে আলখাল্লা হয়ে পরা হয়, দৈনন্দিনের সেলাইয়ে গাঁথা।
রান্নাঘরের কোনায় বাগানের কাঠ থেকে খোদাই হামান তাকে ভারী বসে। তারা স্মৃতির বাইরে বছর ধরে একই ঝোলের জন্য মশলা বেটেছে, একই টেবিলের জন্য তৈরি। কাঠের চামচের হাতল ব্যবহারে মসৃণ, আর রান্নার নিয়ম বদলালেও মায়ের যত্নশীল নাড়ানো চিন্তা ছাড়াই ফেরে। কোনো কোনো সন্ধ্যায় ভুগর্ভ থেকে শেষ মূল সবজি আনা হয়, তাদের খোসায় সময়ের সঙ্গে আসা ছোপ ছোপ নরমতা। সেগুলো ছাড়ানো ও কুচোনো হয়, ঘন ঝোলে সেদ্ধ হয়, এমন বাটিতে পরিবেশন হয় যা উৎসব ও শোক দুটোই দেখেছে।
আনাতোলিয়ার উঁচু পাহাড় থেকে রাখালেরা এখনো ভেড়ার পশম থেকে অনুভূত গড়ে টুপি বানায়, তাদের প্রপিতামহের মতোই, পাথরে লোম পিটিয়ে হাতে আকার দেয়। বসন্তে বুনো গোলাপ বেড়ার ধারে ফোটে। সেগুলো তুলে মিষ্টি আচারে চাপা হয়, সকালের রুটিতে চামচ করে দেওয়া হয়। পাপড়ি, এককালে উজ্জ্বল, চিনিতে স্বচ্ছ হয়, জিভে লেগে থাকা সুবাসের স্মৃতি।
পুরোনো মুকুট হাতে রাখলে শেষ জাদুঘর হয়, তৃণভূমি নয়। ভোরের প্রথম রশ্মি পেরিয়ে যায়, রক্ষক নিদর্শন বারবার উল্টে দেখে, বিশ্রাম দিতে অনিচ্ছুক। তবু নরম কাজ সাহায্য করতে পারে। এক গোলাপ বইয়ের পাতার মাঝে চাপুন, বন্ধুর জন্য গরম রুটির শেষ টুকরো রাখুন, পুরোনো চামচ পালিশ করে সকালের চা নাড়ুন, অথবা এক চিঠি লিখে মোমে সিল করুন, না পাঠালেও। এ ইশারা যা থাকে তার সম্মান রাখে, সকালকে ভিতরে আসতে দিয়ে।
আজকের ভাগ্যের রং গোলাপি বাদামি।
Lucky Color: RosyBrown — #BC8F8Fআস্তে ছাড়ুন, যাতে নতুন আলো ঢুকতে পারে।
ভোর সবসময় বন্ধ দরজার ওপারে অপেক্ষা করে।