উলটো মহাযাজিকার উপস্থিতি খালি দীর্ঘ পথের এক সিল করা দরজার মতো। তাঁর আশ্রয়ের ওপর পর্দা শক্ত করে টানা। তিনি যে পুঁথি ধরেন, তা কখনো খোলে না। তার অক্ষর বন্ধ ঠোঁট, সাধককে কিছু প্রতিশ্রুতি দেয় না। পায়ের কাছে জল জমে, কিন্তু প্রতিবিম্ব নিজের কাছে রাখে। কোনো ঢেউ নেই, কোনো প্রকাশ নেই, শুধু এক নীরব তল। এই জায়গায় যা ভিতরের সত্যের পথ হতে পারত, তা প্রতিবন্ধক হয়ে গেছে। গোপন কথা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে না। নিচের দিকে চাপা, শক্ত মাটির নিচে বাঁক খাওয়া শিকড়ের মতো। নাগালের বাইরে, তবু জীবিত।
হাওয়া-ঝাপসা মুরভূমি আর পাথুরে চারণভূমি জুড়ে এক গাছ গজায়, যে এই আগলে রাখার ভাষা জানে। তার ডাঁটা জেদি কাঁটায় সজ্জিত। ঠান্ডার বিরুদ্ধে ফোটা গুচ্ছকে রক্ষা করে। শত শত বছর আগে রাখাল আর পথিকের হাতা এই গাছে ঘষত। কখনো ধারালো পাতায় পশম বা কাপড় আটকে যেত। স্কটল্যান্ডে গাছটি এক চিহ্ন হয়ে উঠল। তার ফুল নীরব সহ্যের নিশানা। সহজে দাবি করা বা বোঝা যাওয়ার প্রতিরোধ। তার মাথা ঠান্ডা উত্তরের হাওয়ায় দোলে, ভুলে যাওয়া পথের ধারে শক্ত গুচ্ছে। পাহাড়ের ঢালকে জেদি আলিঙ্গনে ধরে। এখানে গাছ সেখানে বেড়েছে, যেখানে অন্যেরা বাঁচত না। জমিতে নিজের সীমানা নিজে এঁকেছে।
তার না-নতি স্বভাব ঘিরে লোকগল্প গড়ে উঠেছে। শিশুদের সাবধান করা হত কোথায় বসছে দেখতে, পাছে হাত বা হাঁটু কাঁটায় চেপে যায়। তবু রান্নাঘরে আর ছোট খামারে সেই গাছ যত্ন করে তোলা হত। জট পাকানো মাথা থেকে বীজ ছাড়িয়ে যবের আটার সঙ্গে পিষে রুটি বানানো হত, যা শুকনো মাসে পরিবারকে খাওয়াত। কেউ কেউ বীজ ঝলসাত, চায়ের জন্য এক ফিকে বাদামের স্বাদ বের করত। মনে করা হত সেই চা শান্ত করে বা জোর দেয়। তিক্ততা কঠিন জায়গা আর লুকানো দানের কথা মনে করিয়ে দিত। শক্ত ডাঁটা শুকিয়ে ঘরের ঝাড়ু হত। যে জেদে গাছ মাটি আঁকড়ে থাকত, সেই জেদে মেঝে ঝাঁট দিত। এভাবে যা অচ্ছুঁয় লাগত, তা দৈনন্দিন জীবনে বোনা হয়ে গেল। কাজে লাগানো এক গোপন কথা।
পুরনো রাস্তায় পথিকেরা শণের কাপড় বা পশমের টুকরো কাঁটা ডাঁটায় গিঁট দিত। বিশ্বাস করত, কোনো নীরব ইচ্ছে হাওয়ায় উড়ে যাবে, অথবা গাছের খাড়া চেহারা আগলে রাখবে। কোনো কোনো গ্রামে শিকড় সিদ্ধ করে ওষুধি কাথ বানানো হত। হাঁড়ি থেকে ওঠা গন্ধ বৃষ্টিতে ভেজা ক্ষেতের কথা বলত, আর পাথুরে মাটি খোঁড়া হাতের স্মৃতি। জগতে গাছের উপস্থিতি এক নীরব অস্বীকার। উত্তর শুধু তাদের দেওয়া, যারা কাঁটার ওপাশে হাত বাড়াতে রাজি।
আজ আপনি খালি ক্ষেতের কিনারায় ঘুরতে পারেন। জেদি ডাঁটার এক ছোট থোকা খুঁজে জানালার ধারে রাখতে পারেন, এক ধরনের ঢাল। বীজ জড়ো করে গ্রাম্য রুটির আটায় পিষতে পারেন, অথবা ভিজিয়ে এমন রস বানাতে পারেন যাতে খোলা পাহাড়ের স্বাদ থাকে। তার শক্ত ডাঁটার ঝাড়ু দিয়ে চৌকাঠ ঝাঁট দিতে পারেন। অথবা দুই পথের মোড়ে এক গাছে পুরনো কাপড়ের সুতো বাঁধুন। আপনার গোপন কথা হাওয়া আর বৃষ্টির সঙ্গে চলুক।
আজকের ভাগ্যের রং কাঁটাফুল।
Lucky Color: Thistle — #D8BFD8যা সবচেয়ে আগলে রাখা, তাও চুপ করে দিনটাকে বদলাতে পারে।