এমন এক রাত আছে, অনেক দিন মনে থাকে, যখন এক ঝলকে আকাশ চিরে যায়, আর এক মিনার তার উচ্চতায় একা দাঁড়ায়। প্রাচীন ঢাল থেকে কাটা পাথরের খণ্ড শতাব্দীর আবহাওয়া আর যুদ্ধ সয়েছে, কিন্তু আজ রাত আলাদা। বজ্র মাটি কাঁপায়। বিদ্যুৎ সবচেয়ে উঁচু প্রাচীরের মুকুট খুলে দেয়, দেয়াল চিরে, টুকরো নিচের ধাপে গড়িয়ে পাঠায়। ভিতরে যা রাখা ছিল, গোপন কথা, অহংকার, নাজুক হৃদয়, তা ঠান্ডা, অরক্ষিত অন্ধকারে ছড়িয়ে পড়ে।
আজ রাতে মিনারের চারপাশের ভূমি স্লেটের এক বিস্তার, এক শৈলশিরা যেখানে খনি শ্রমিকরা একসময় ছাদের টালি আর দোয়াতের পাথর খুঁড়ত, যেখানে ভোর ভাঙতেই হাত খাটত, আর হাওয়া খোলা পাথর ঘষে পরিষ্কার করত। মিনারের নিচে মাটি খোদাই টুকরোয় ছড়ানো, ভাঙা প্রতিশ্রুতির চাঙড়ের মতো। খনি শ্রমিকদের হাতিয়ার ঢালের গায়ে হেলান দিয়ে আছে। অর্ধেক চেরা এক টুকরোর পাশে পড়ে থাকা এক বাটালি, কাজের স্মৃতিতে কালো এক হাতুড়ি, যত্নশীল হাতে মসৃণ এক শানপাথর। এই ধস প্রাচীন ব্যবসার প্রতিধ্বনি, কারণ প্রতিটি স্লেটের ছাদ একসময় ঝুঁকি আর মনস্থিরতা নিয়ে মাটি থেকে তোলা হয়েছিল, যেমন মিনার গড়া হয়েছিল এই বিশ্বাসে যে কিছু একটা ঝড়ের বিপরীতে দাঁড়াতে পারে।
অন্য জায়গায়, দূর শহরের রান্নাঘরের টেবিলে এক লেখিকা স্লেটের তলির উপর পেয়ালা রাখেন আর জানালায় বৃষ্টির টোকা শোনেন। তিনি পাহাড়ের খনির কথা ভাবেন, সন্ধ্যায় ধুলোমাখা চুলে বাড়ি ফেরা নারী ও পুরুষদের। তাঁর টেবিলে না-লেখা নোটের স্তূপের পাশে এক চিঠি কাটার ছুরি পড়ে, তার হাতল মিনারের দেয়ালের সেই একই পাথর থেকে খোদাই। তিনি তালুতে সেটা উল্টে দেখেন, ঠান্ডা, সমান ভার টের পান, মনে করিয়ে দেয় চাপে গড়া জিনিস নির্ভরযোগ্য, ভাঙে না এমন নয়। শহরের ছাদ, একে অপরের উপর চাপানো টালিতে ঢাকা, ঝড় সয়ে অপেক্ষা করে। তাদের নিচে মানুষ উনুন ঘিরে জড়ো হয়, হাঁড়ি নাড়ে, মোমবাতি জ্বালায়, ওলটপালট আর নবায়নের গল্প ফিসফিস করে।
বিদ্যুৎ রাত চিরলে পথিকেরা পুরোনো রাস্তার ধারে এক স্লেটের চাতালের নিচে আশ্রয় নেয়। বাতাস ভরা। প্রথম ভারী ফোঁটা পড়ে, ধাপ থেকে লাফিয়ে ওঠে। পথিকেরা ঠান্ডা পাথরে হাত চেপে ধরে, এক মুহূর্ত আকাশের তীব্র ঝলকে তাদের মুখ আলোকিত। তারা জানে পাহাড়ের ধাপ আশ্রয় আর খোলা দুটোই, পাথরের শক্তি প্রমাণ হয় সে যা সয় তাতে। পরের সময়ে পৃথিবী বৃষ্টি আর পিষে যাওয়া শৈবালের গন্ধে ভরে। জীবন্ত পাথর জল শোষে, ধীরে আর ধৈর্য নিয়ে।
আজ কেউ বাগানে এক টুকরো জায়গা পরিষ্কার করে, পথ বানাতে চ্যাপটা নদীর পাথর পাততে পারেন, খনির কথা আর গড়ার মানুষের কথা মনে রেখে। কেউ মসৃণ তলে এক চিঠি লিখতে পারেন, কলম স্থির চলুক, যেন স্থায়ী কিছুর মধ্যে খবর খোদাই হচ্ছে। ঝড়ের সন্ধ্যায় পুরোনো পাহাড় থেকে কাটা এক তেপায়ের উপর কেতলি রাখুন আর বৃষ্টি শুনুন, ছাদ শক্ত থাকুক। মুষলধারের পর বাইরে পা দিন, রাস্তার ধার থেকে ছোট পাথর কুড়োন, পকেটভরা স্মরণ যে যা পড়ে তা আবার কুড়ানো যায়।
আজকের ভাগ্যের রং পাথরের ধূসর।
Lucky Color: SlateGray — #708090আবহাওয়া সইয়ে নিন। যা লুকোনো ছিল, তাকে শ্বাস নিতে দিন।